advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সরকারের ঋণস্থিতি বেড়েই চলেছে

পুঞ্জীভূত ঋণস্থিতি জিডিপির ৩৮ শতাংশ # ছয় বছরে বেড়েছে ৯৪ শতাংশ

আবু আলী
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ১০:০৫ এএম
advertisement

দেশে উন্নয়ন প্রকল্পের চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আহরণসহ অভ্যন্তরীণ সম্পদের সংগ্রহ হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এতে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি বেড়েই চলেছে। এক বছরের ব্যবধানে এ স্থিতি ১২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এ সময় এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বৃদ্ধির ফলে সরকারের সার্বিক পুঞ্জীভূত ঋণস্থিতি জিডিপির ৩৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে। করোনাজনিত কারণে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কারণে ঋণের স্থিতি বেড়েছে। অন্যদিকে গত ছয় বছরে দেশে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি বেড়ে দ্বিগুণের কাছাকাছিতে দাঁড়িয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

চলতি বছরের গত জুন শেষে সরকারের মোট ঋণস্থিতি (অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক) দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বা ২০২০ সালের জুন শেষে সরকারের সার্বিক ঋণস্থিতি ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ২০২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ হাজার কোটি টাকা। জিডিপির হিসাবে বেড়েছে এক দশমিক ২৭ শতাংশ।

সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণের ঋণের মধ্যে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা সঞ্চয়পত্র খাত থেকেই সরকার ঋণ নিয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা (২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা)। অন্যদিকে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট গৃহীত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঋণস্থিতি ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার ২৯১ কোটি টাকা)। ব্যাংকব্যবস্থা থেকে গৃহীত ঋণের মধ্যে ট্রেজারি বন্ড ও স্পেশাল ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা, ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৫১ হাজার ২৬৮ কোটি এবং ‘সুকুক’-এর মাধ্যমে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া অন্যান্য খাত থেকে মোট গৃহীত ঋণের স্থিতি হচ্ছে ৪৪ হাজার ৩১ কোটি টাকা। ঋণস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা (২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা)। এর মধ্যে বহুপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮০ কোটি এবং দ্বিপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুন শেষে দেশে বৈদেশিক ঋণের স্থিতির পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার (১ বিলিয়ন=১০০ কোটি)। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে চলতি বছরের মার্চে এসে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। সে হিসাবে গত ছয় বছরে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি বেড়েছে প্রায় ৯৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

একই সঙ্গে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণ-রপ্তানি অনুপাতও। ২০১৫ সালে রপ্তানির বিপরীতে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯১ দশমিক ২ শতাংশে। অর্থাৎ রপ্তানির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ এখন অনেক বেশি। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ ও চলতি হিসাবের অনুপাতও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫ সালে চলতি হিসাবের তুলনায় বৈদেশিক ঋণ ছিল মাত্র ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত বছর উন্নীত হয়েছে ১১১ শতাংশে।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭৬ ডলারে। ঋণ গ্রহণে জটিলতা ও বিভিন্ন সারচার্জ এবং অবকাঠামো সমস্যার কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এখন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, জিডিপির তুলনায় এখনো সহনীয়। তবে সরকারি ঋণের বড় অংশই সঞ্চয়পত্র থেকে। ইতোমধ্যে সরকার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে, যা ইতিবাচক।

 

 

 

advertisement
advertisement