advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বড়পুকুরিয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি
১৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০১:৫৪ এএম
advertisement

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পাশর্^বর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার বাঁশপুকুর এবং বৈদ্যনাথপুর গ্রামে নতুন করে অবনমন ঘটায় ক্ষতিগ্রস্তদের অধিগ্রহণের নামে হয়রানি ও অর্থ প্রদানে বিলম্বের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন দুই গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে বড়পুকুরিয়া স্কুল ও কলেজ মাঠে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ইব্রাহিম খলিল, রেজওয়ান, রুহুল আমিন, বেলাল উদ্দিন, সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, গ্রামবাসী লুৎফর রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে চারপাশের ৬০০ একরেরও বেশি জমি দেবে গেছে। জমিগুলো পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকার জলাশয়ে। প্রথম দিকে ১৯০ কোটি টাকায় ৬৭২ একর জমি অধিগ্রহণ

করে খনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানের অধিগ্রহণের বাইরে নতুন করে বাঁশপুকুর ও বৈদ্যনাথপুর দুটি গ্রামের প্রায় ১৫ দশমিক ৫৮ একর জমি অবনমন হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই দুই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। ফাটল ধরেছে ঘরবাড়িতে। কুয়া, টিউবওয়েল ও পুকুরের পানি প্রতিনিয়ত ভূগর্ভে নেমে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় খনি কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালের ১ মার্চ ৪ ধারায় ও ২৩ জুন ৭ ধারায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের জমি অধিগ্রহণের নোটিশ দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়নি আজও। দেওয়া হয়নি ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ। এ কারণে গ্রামের বসবাসকারী পরিবারগুলো ঘরবাড়ি ছেড়েও যেতে পারছেন না। আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। যে কোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি অবনমন হতে পারে।

এদিকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা মো. ইব্রাহীম খলিল জানান, ইতিপূর্বে অধিগ্রহণকৃত জমির অর্থ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে আমাদের বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। আবারও সেই রকম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আমরা বুঝি না খনি কর্তৃপক্ষ কেন বারবার এমন করে। তারা কেন আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করে। আমরা তো আমাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি ছেড়েই দিচ্ছি। শুধু ক্ষতি পূরণ এবং অধিগ্রহণের অর্থ সুষ্ঠুভাবে দিলেই হয়।

তিনি খনি কর্তৃপক্ষকে হুশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খনি কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা হবে আমাদের ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দিতে।

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খানের মুঠোফোনে একাধিকার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কল কেটে দেন।

advertisement
advertisement