advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দোষারোপের সংস্কৃতি বাদ দিতে হবে

সুষ্ঠু বিচারের তাগিদ টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ০২:০১ এএম
advertisement

দুর্গাপূজা ঘিরে কুমিল্লাসহ দেশের অন্তত ১৫ জেলায় শতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, রাজনৈতিক দোষারোপের ঘেরাটোপে আটকে এসব ঘটনার বিচার না হওয়ায় নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের সহিংসতা ঘটছে। তাই এ ধারাবাহিক সহিংসতাকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার সুযোগ নেই। গতকাল

এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ জীবন-জীবিকার ওপর প্রায় সপ্তাহব্যাপী চলমান সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ মাঠ প্রশাসন দুঃখজনক ব্যর্থতার পরিচয় দিল।’

তিনি আরও বলেন, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর শতাধিক মামলায় কয়েক হাজার আসামি করা হলো। অথচ চিরাচরিত রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ স্থানেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার পূর্ববর্তী সহিংসতাগুলোতেও আমরা একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখেছি। এতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে চলে যায় এবং নিয়মিত বিরতিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটতেই থাকে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, বিগত এক দশকে তিন হাজারেরও বেশি সহিংস হামলায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দেড় হাজারেরও বেশি বাড়িঘর, প্রতিমা, পূজাম-প ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের একটি ঘটনাতেও আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তথ্য পাই না। সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বিচারহীনতার এ সংস্কৃতিই হামলাকারীদের আরও উসকে দিচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িকতার বীজ জিইয়ে রাখছে।

সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা চিরতরে নির্মূল করে সহিংসতার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ অসম্ভবই রয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। কুমিল্লার ঘটনার পরপরই কারিগরি ত্রুটির কথা বলে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে এবং মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার না করে সহিংসতা রোধের প্রাগৈতিহাসিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নয়, বরং দল-মত নির্বিচারে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক অতীতে রামু, উখিয়া, নাসিরনগর, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে এ আশঙ্কা অমূলক নয় যে প্রতিটি সহিংসতার পেছনেই কোনো না কোনো স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ আছে, ধর্মের মোড়কে যা ভয়ঙ্কর আগ্রাসী হয়ে উঠছে। কিন্তু পর্দার পেছনের কুশীলবদের অদৃশ্য আঙুলের ইশারায় তারা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

এ প্রভাবশালীদের সুরক্ষা দিতেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না- এমন সন্দেহ অলীক হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে অপরাধীকে সুরক্ষা না দিয়ে প্রচলিত আইনে এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরপরই সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা তদন্তে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট গঠিত শাহাবুদ্দিন কমিশন বেশকিছু সুপারিশসহ ২০১২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, প্রায় এক দশক পরেও কেন প্রকাশ করা হয়নি তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ কমিশন প্রায় ১৮ হাজার সহিংসতার ঘটনার বিপরীতে জমা পড়া ৫ হাজার ৫৭৯টি অভিযোগের মধ্যে ৩ হাজার ৬২৫টি অভিযোগের তদন্ত করে ১ হাজার ৭৮ পৃষ্ঠার যে বিশাল প্রতিবেদন জমা দিল- আমরা এমনকি জানতেও পারলাম না যে, সেখানে কী সুপারিশ ছিল! আমরা মনে করি, এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার চর্চা বাদ দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে আন্তরিকভাবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ করার এখনই সময়।

advertisement
advertisement