advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পীরগঞ্জের পরিতোষের দায় স্বীকার
কুমিল্লায় আলোচনায় তিন কাউন্সিলর

আমাদের সময় ডেস্ক
২০ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ০২:১৯ পিএম
কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন (বাঁ থেকে), ইকরাম হোসেন বাবু ও কাজী গোলাম কিবরিয়া। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা করে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন পরিতোষ সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পীরগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক ফজলে এলাহীর কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ দায় স্বীকার করেন তিনি। ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পরিতোষকে গত সোমবার রাতে জয়পুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

একই দিন পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৪১ আসামিকে গতকাল আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে বিচারক ৩৮ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের বিষয়ে এখনো শুনানি হয়নি। ৩৮ জনকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার বাদী পীরগঞ্জ থানার এসআই ইসমাইল হোসেন জানান, হিন্দুপল্লীতে হামলার ওই ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলাটি ওসি (তদন্ত) মাহবুব রহমান এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা এসআই সাদ্দাম হোসেন তদন্ত করছেন।

এদিকে কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ে পূজাম-পে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া মামলার আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তবে ওই ঘটনার মামলায় জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তিন কাউন্সিলর আসামি হওয়ায় তারা আছেন আলোচনার কেন্দ্রে। ওই তিন কাউন্সিলরের কেউ-ই গ্রেপ্তার হননি। এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণ জনগণের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তারা প্রতিনিয়তই আপডেট জানতে গণমাধ্যমকর্মীদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্যই খোলাসা করা হচ্ছে না। শুধু বলা হচ্ছে- ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। দিনরাত তারা কাজ করলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সময় লাগছে।

এদিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার জোতদৈবকী দুর্গামন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গত সোমবার রাতে মামলা হয়েছে। মন্দিরটির সভাপতি দীপেন সাহা লালপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। এ ছাড়া ফেনী শহরের কালীপাল গাজীগঞ্জ মহাপ্রভুর আশ্রম, ট্রাংক রোড ও বড় বাজারের কালীমন্দিরে গত শনিবার রাতের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ফেনী মডেল থানায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে। নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ছয়জনকে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রংপুর : কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিতোষ সরকারকে গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে তোলা হয়। পিপি আবদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি তার কর্মকা-ের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রথমে তাকে কিশোর দাবি করা হলেও পুলিশ প্রমাণ করেছে পরিতোষের বয়স ১৯ বছর। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কুমিল্লা : গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান, কুমিল্লার পূজাম-পের ঘটনার অনেক আলামত এখন তাদের হাতে। খুব সহসাই তারা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন। সিসিটিভির ফুটেজ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা এখন সময়ের ব্যাপার। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, এ ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকরাম হোসেন বাবুকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

গত সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ বলেন, পূজাম-পে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি থানায় পৃথক আটটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নাটোর : লালপুর থানার ওসি ফজলুর রহমান জানান, জোতদৈবকী দুর্গামন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। গত রবিবার রাতের কোনো এক সময় মন্দিরটির শীতলাদেবীর একটি প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার সকালে মন্দির থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে থেকে প্রতিমার ভেঙে ফেলা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

ফেনী : শহরের কালীপাল গাজীগঞ্জ মহাপ্রভুর আশ্রম, ট্রাংক রোড ও বড় বাজারের কালীমন্দিরে গত শনিবার রাতের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় গত সোমবার রাতে ট্রাংক রোডের জয়কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার দাস ২৫০ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে এ মামলার আসামি নোয়াখালীর সেনবাগের লদুয়া কানকির হাট এলাকার (বর্তমানে ফেনী পৌরসভার শাহীন একাডেমি রোডের মনু ভিলার) বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মিয়াজীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার অপর পাঁচজনের মধ্যে চারজন ফেনী থানাপুলিশের করা দুই মামলার আসামি। তারা হলেন- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মাওলানাপাড়ার মো. সোহেল, বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের কাকড়াতলীর মো. রোমান শেখ, ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া কটুমিয়া ভূঞাবাড়ির মোয়াজ্জেম হোসেন ও সাইফুল ইসলাম। গ্রেপ্তার অপরজন একই ঘটনায় র‌্যাবের করা মামলার আসামি ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়ার মেহেদী হাসান মুন্নাকে। জেলা ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। নতুন গ্রেপ্তার ছয়জনকে গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে ফেনীতে মন্দির, আশ্রম ও দোকানপাটে হামলা ভাঙচুরের চার মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

 

 

advertisement
advertisement