advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

তিস্তার পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপরে, ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী

নীলফামারী প্রতিনিধি
২০ অক্টোবর ২০২১ ০৯:৩৩ পিএম | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ০৯:৪১ পিএম
নীলফামারীতে বন্যায় ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও গবাদিপশু। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

ভারী বৃষ্টিপাত আর উজানের পাহাড়ি ঢলে ভারতের গজলডোবার সব কয়টি গেট খুলে দেওয়ায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৩ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপরে।

তিস্তার ভয়াবহ বন্যায় পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বামতীরের বেরিবাঁধ ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের স্বপন বাঁধ আজ বুধবার সকাল ৯টায় ভেঙে যাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৬টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বন্যায় পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকশ ঘরবাড়ি, গাছপালা, গবাদিপশু পানিতে ভেসে গেছে। এদিকে ভারীবর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গুলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছেন ও কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধান তলিয়ে গেছে।

ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় এবং রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অধিকাংশ মানুষ ঘরবাড়িসহ গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়েছেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধানের আবাদি জমি। পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো পানিবন্দী মানুষ।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন জানান, কার্তিক মাসে হঠাৎ ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বন্যায় দুইটি বেরিবাঁধ ভেঙে গিয়ে ডিমলা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। আর হাজার হাজার হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস আলী জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, টানা দুই দিনের বৃষ্টির ফলে ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বিকেল ৩টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তা বেষ্টিত এলাকায় মাইকিংসহ রেড সংকেত জারি করা হয়েছে।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হঠাৎ উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে ডালিয়া পয়েন্ট বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারেজের ৪৪ টি শ্লুইজ গেট খুলে রাখা হয়েছে।

advertisement
advertisement