advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পাঠকের লেখা
পণ্য সিন্ডিকেটকারীদের কেন শাস্তির আওতায় আনা হয় না

নীহার মোশারফ
২৩ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ১২:০২ এএম
advertisement

করোনায় বিপর্যস্ত জনজীবন। অনেকেই এই সময়ে চাকরি হারিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের খেয়েপড়ে বাঁচাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এর ওরপর বর্তমানে বাজারে দ্রব্যমূল্যের যা অবস্থা চারদিকে! এ যন আগুন। দামের আগুন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বর্তমানে কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। ঊর্ধ্বগতি যেন ক্রমবর্ধমান অভিশাপ রূপে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ক্রেতাদের বাজারে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে যে যার মতো করে দাম হাঁকাচ্ছে। দেশে প্রতিটি দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদার মধ্যে জোগানও কম নয়। অথচ দুইয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। আছে ভারসাম্যহীনতা। কৃত্রিম সংকট তৈরি, মুজদদারি, ফটকাবাজি, মুদ্রাস্ফীতি ও একশ্রেণির কালোবাজারির কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম পাহাড়সম হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির জন্য পণ্য মজুদ করে। ফলে সাধারণ জনগণের ভোগান্তির সীমা থাকে না। আয়ের তুলনায় ব্যয় এত বেশি যে, জীবনযাপন করা খুবই কষ্টকর। বিশ্বব্যাপী করোনার যে ভয়াল থাবা তার আঘাত বাংলাদেশেও পড়েছে। সবচেয়ে আঘাত হেনেছে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। মধ্যবিত্তের দুর্ভোগের শেষ নেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে। অনেক চাকরিজীবীর চাকরি চলে গেছে করোনার প্রভাবে। এখনো তারা চাকরি পায়নি। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেই নয়, এমন কোনো স্থান, সেক্টর, দোকানপাট, যানবাহন নেই যেখানে যার যার মতো করে মূল্যবৃদ্ধি করেনি। জিনিসের গায়ে হাত দিলেই মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তারা বলতে নারাজ। যে দ্রব্যের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই সেখানেও মূল্যবৃদ্ধি। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম হাতের নাগালের বাইরে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবার যে কতটা কষ্টে আছে তা তারা প্রকাশ করতে পারে না। এর মধ্যে আবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। যানবাহনে বেড়েছে ভাড়া। বেড়েছে জনগণের ভোগান্তি। বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম। কী হবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন ধর্মঘট করে? কদিন পরেই জনগণের পকেট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। একজন লোক বা চাকরিজীবী চাকরি করলে মাস শেষে বেতন পায় খুব কম প্রতিষ্ঠানে। বিশেষ করে গার্মেন্টশিল্পে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয় দশ তারিখের পর। বিভিন্ন অজুহাতে আবার বেতন কর্তন করা হয়। বেতন কর্তন করতে করতে মূল বেতনের অর্ধেকে চলে আসে। কেউ কেউ এক মাস বেতন পেলে দুই মাস বেতন পায় না। তারা যখন অল্প ক’টাকা নিয়ে বাজারে যায় দ্রব্যের গায়ে হাত দিতে পারে না আগুনের ভয়ে। নিম্নআয়ের মানুষ সংসারের খরচ বহন করতে হিমশিম। তারা না পারে সঞ্চয় করতে, না পারে ভালোভাবে চলতে। ফলে তারা ধার করে জীবনধারণ করে। বাজারে কোনো পণ্যের অভাব নেই। তার পরও স্থিতিশীল নয় দ্রব্যমূল্যের বাজার। চাল, ডাল, তেল, নুন, চিনিসহ প্রতিটি পণ্যের দাম কেবল বাড়ছে আর বাড়ছে। মৌসুমি শাকসবজিতে বাজার ভরপুর। কোনো সবজিতেই যেন কমতি নেই। পেঁয়াজ তো মাঝেমধ্যে যেভাবে উধাও হয় খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। পেঁয়াজের দামের ঝাঁজে কত ক্রেতা যে অসুবিধায় পড়েছে হিসাব নেই। অনেকের মতে, পেঁয়াজ মাঝেমধ্যে সোনার হরিণ হয়ে যায়। পণ্যের দাম যখন অন্যান্য দেশে কমার গতিতে থাকে তখন আমাদের দেশে বাড়ার গতিতে থাকে। এসব বিষয়ে যেন কোনো খবরদারি নেই। নেই নজরদারি। নেই বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা। ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন দেশে কম নয়। উৎপাদন ব্যয় যে খুব বেশি তাও নয়। তা হলে ভোক্তারা কেন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে? আমরা টিসিবির সূত্রে জানতে পেরেছি সয়াবিন তেল, খোলা আটা, ময়দা, রসুন, আদা, গুঁড়োদুধ, লেখার কাগজসহ কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বাড়েনি জীবনযাত্রার মানও। কেন বাজারে সিন্ডকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল করে তুলছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। এতে প্রান্তিক মানুষের উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে। পরিস্থিতি চরমে উঠলে মন্ত্রী মহোদয় আশ্বাস দিয়ে থাকেন দেশে সব ধরনের পণ্য মজুদ আছ। বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে না। এমন বক্তব্যের পরও বাজার স্থিতিশীল হয় না। সুশীল সমাজের বক্তব্য, বাজারে পণ্য সিন্ডিকেটকারীদের ধরে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। কিন্তু এই কাজটি করবে কে? আমাদের ভাবতে হবে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রান্তিক মানুষ অন্তত দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। জনজীবনও বিপর্যস্ত হবে না।

নীহার মোশারফ : প্রাবন্ধিক

advertisement
advertisement