advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ইলিশের গায়ে চিহ্ন দিয়ে উজানে ছাড়ছে ভারত

আমাদের সময় ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
advertisement

ইলিশ মাছ সংরক্ষণে বিশেষ এক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআইএফআরআই)। ইলিশের গতিবিধি নজরদারিতে মাছটির গায়ে চিহ্ন দিয়ে গঙ্গা নদীর উজানে ছেড়ে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সাগর থেকে উঠে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা এলাকায় গঙ্গা নদীর উজানে ইলিশ ডিম পাড়তে আসে। তাই সেই এলাকা সংরক্ষণেই এই বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইলিশের ডিম পাড়ার এলাকা সংরক্ষণের পাশাপাশি সিআইএফআরআই দেখতে চায়, ইলিশ উত্তরে নদী পথ বেয়ে কত দূর যেতে

পারে। যে কারণে, ছোট ছোট ইলিশ মাছ ধরে তার গায়ে চিহ্ন দিয়ে তাকে খুব যত্নের সঙ্গে বাঁচিয়ে রেখে গঙ্গার উত্তর দিকে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ইলিশ পানি থেকে তুললে খুব অল্পক্ষণ বাঁচে। তাই খুবই যত্ন লাগে এই কাজে। এবার সেই চিহ্নিত ইলিশ যদি নদীর উত্তর দিকের কোনো জায়গায় মৎস্যজীবীদের হাতে ধরা পড়ে, তা হলে মাছটির গতিবিধি বোঝা যাবে। সে জন্য মৎস্যজীবীরা চিহ্নিত ইলিশ ধরতে পারলে প্রতিটির জন্য ২০০ রুপি করে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। সিআইএফআরআই কর্মকর্তা সঞ্জীবকুমার জানান, ইতোমধ্যেই প্রায় আড়াইশ চিহ্নিত ইলিশ ধরা পড়েছে গঙ্গার উজানের বিভিন্ন এলাকা থেকে।

যে ১১টি দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়, বাংলাদেশ তার মধ্যে শীর্ষস্থানে। মাত্র চার বছর আগে বাংলাদেশ ইলিশের জোগান দিত বিশ্বের ৬৫ শতাংশ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৮৬ শতাংশ। সে তুলনায় ইলিশ উৎপাদনে ভারত ছিল দ্বিতীয় স্থানে। পাঁচ বছর আগে ভারতে ইলিশের উৎপাদন ছিল বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ। সে উৎপাদন বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। ইলিশ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, জাটকা ধরার ফলেই ইলিশের এই সংকট। তাই সিআইএফআরআইয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ নিয়ে ফারাক্কা থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা বাড়াতে চাইছে ভারত সরকার।

সিআইএফআরআইয়ের সমীক্ষায় জানা গেছে, ফারাক্কার পর থেকে উজানে ইলিশের প্রজনন এখন প্রায় বন্ধ। ফারাক্কা ব্যারাজ টপকে গঙ্গার উজানে ইলিশ আর ঢুকতে পারছে না। অথচ ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার আগে এলাহাবাদ পর্যন্ত প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। নদীর উজানে ব্যাপক পলি, নদী দূষণ এবং নির্বিচারে জাটকা ধরার ফলে ফারাক্কায় ইলিশের পরিমাণ একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। তাই ফারাক্কায় নদীর নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে ডিম পাড়ার উপযোগী করে তুলে সংরক্ষণের মাধ্যমে গঙ্গায় ইলিশের সংখ্যা বাড়াতেই এ চেষ্টা ।

খবরে আরও জানানো হয়, ফারাক্কায় ইতোমধ্যেই ২৫০ মিটার লম্বা ও প্রায় ২৬ মিটার চওড়া একটি নতুন নেভিগেশনাল লকগেট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পুরনো লকগেটটি চালু হয় ১৯৭৮ সালে। তার পর থেকেই উজানে ইলিশের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, নতুন নেভিগেশনাল লকগেট চালু হয়ে গেলে উজানে এলাহাবাদ পর্যন্ত ইলিশের জোগান বাড়ার পাশাপাশি ডিম পাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সিআইএফআরআইয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞ এ কে সাহু জানান, ফারাক্কায় ইলিশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। গঙ্গার ভাটি থেকে ইলিশ ধরে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্যাগিং করে তা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে উজানে। এর মাধ্যমে মাছটির গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

advertisement
advertisement