advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

২০২৪ সালের আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে ৪ চ্যালেঞ্জ

মো. মহিউদ্দিন,চট্টগ্রাম
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ১০:২০ এএম
কক্সবাজার রেলস্টেশনের আইকনিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে - আমাদের সময়
advertisement

দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গল লাইন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ৬৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রেললাইনের সেতু-কালভার্টের কাজ হয়েছে গড়ে ৭০ শতাংশ। তবে পিছিয়ে আছে স্টেশন ভবন ও ট্র্যাক নির্মাণের কাজ। অবকাঠামো নির্মাণে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, বৈদ্যুতিক পোল, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ বাস্তবায়ন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে প্রকল্প পরিচালক ২০২৩ সালের মধ্যে নতুন এই রুটে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে আশাবাদী। অবশ্য রেল সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।

জানা গেছে, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে মায়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প ২০১০ সালের ৬ জুলাই অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। তখন প্রকল্পটি ২০১৩ সালে বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের একনেক সভায় সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজের পরিবর্তে ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ডুয়েলগেজ ট্র্যাকের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডাবল লাইন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের নির্দেশ দেন। ২০১৬ সালে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প পরিচালক জানান, ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৮ শতাংশ। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১৯, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৩, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরের (অক্টোবর ২০২১) পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৪ শতাংশ। প্রকল্পের মোট অগ্রগতি হয়েছে ৬৪ শতাংশ। এরমধ্যে মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে ৮০ শতাংশ, সেতু ৮৫, কালভার্ট ৬৫, স্টেশন ভবনের কাজ ৩৫ শতাংশ, ট্যাক (রেললাইন), বসানোর কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এছাড়া জটিলতামুক্ত ৭৫ শতাংশ ভূমি পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসককে টাকা দেওয়া হলেও মামলার কারণে ২৫ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় ৮৫ ও কক্সবাজারে ৭২ শতাংশ জমি বুঝে পেয়েছে রেলওয়ে।

গতকাল মঙ্গলবার মফিজুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, চারটি ধাপে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রেললাইন প্রকল্পে প্রথমে মাটি ভরাট ও ব্রিজ-কালভার্টের কাজ করতে হয়। এরপর স্টেশন ভবন ও ট্র্যাক বসানোর কাজ। প্রকল্পের কাজ শেষে আরও এক বছর আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকবে। ট্রেন চলাচল শুরু হলে ‘ডিফেক্ট লাইবেলিটির’ কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা দেখা হবে। ওই সময়ের মধ্যে যে কোনো কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে দিবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি, ভূমি জটিলতা, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৮০০ খুঁটি না সরায় প্রকল্পের কাজে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিয়েও কিছুটা জটিলতা আছে। তবে চলতি বছরের মধ্যেই বিদ্যুতের খুুঁটি সরানো হবে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে। মামলা ও অন্যান্য জটিলতার কারণে যেসব ভূমি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক।

সূত্র জানায়, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে মায়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৯ কিলোমিটারের প্রকল্পটি দুটি ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রথম ধাপে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণের কাজ চলছে। এরমধ্যে কক্সবাজারে আইকনিক ভবনসহ ৯টি স্টেশন ভবন নির্মাণ (দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু, কক্সবাজার), ৩৯টি মেজর ব্রিজ, ১৪৫টি মাইনর ব্রিজ-কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেবেল ক্রসিং ও একটি আন্ডারপাস, হাতি চলাচলের জন্য ওভারপাস ও থারমাল ইমেজিং ক্যামেরা প্রযুক্তি প্রবর্তন, ১ হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের কাজ চলছে।

২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশাবাদী প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। যদিও তিনি ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। প্রথমে ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ।

জানা গেছে, প্রকল্পের দুই ধাপের রেলপথ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে চায়নার দুটি ও বাংলাদেশের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়। দুই হাজার ৬৮৭ কোটি ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় প্রথম লটে দোহাজারী-রামু রেলপথ নির্মাণকাজের চুক্তি হয়েছিল চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও দেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মধ্যে। দ্বিতীয় লটে তিন হাজার ৫০২ কোটি পাঁচ লাখ দুই হাজার টাকায় রামু-কক্সবাজার রামু রেলপথ নির্মাণকাজের চুক্তি হয় চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাকস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে।

advertisement
advertisement