advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শাহ আলমসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যায় গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
advertisement

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র সৈয়দ মো. সোহেল (৫২) হত্যার ঘটনায় ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টায় তার ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা করেন। মামলায় কুমিল্লা নগরীর পূর্বাঞ্চলের চিহ্নিত শীর্ষ মাদককারবারি ও সন্ত্রাসী শাহ আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বাকি ১০ জনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। মামলায় নামীয় সব আসামিই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদককারবারি। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদক, খুন, সন্ত্রাসী, রাহাজানিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এদিকে প্যানেল মেয়র সোহেল ও আওয়ামী লীগ নেতা হরিপদ সাহা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার রাতে নগরীর কুচাইতলী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নবগ্রামের শাহ আলমের ছেলে সোহেল ওরফে জেল সোহেল, সুজানগর পানির ট্যাংকসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়ার ছেলে মো. সাব্বির হোসেন, সুজানগর পূর্বপাড়া বউবাজারের মৃত কানু মিয়ার ছেলে সুমন, সংরাইশ এলাকার (রহিম ডাক্তারের গলি) কাকন মিয়া ওরফে চোরা কাকনের ছেলে সাজন, তেলিকোনা প্রাইমারি স্কুলের পূর্ব পাশের (মনির মিয়ার বাড়ি) আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান রকি, সুজানগর পূর্বপাড়া বউবাজার এলাকার মৃত জানু মিয়ার ছেলে আলম, সুজানগর পূর্বপাড়ার নূর আলীর ছেলে জিসান মিয়া, সংরাইশ (বেকারি গলি) এলাকার মঞ্জিল মিয়ার ছেলে মাসুম, নবগ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে সায়মন ও সুজানগর বউবাজার এলাকার কানাই মিয়ার ছেলে রনি।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদককারবারিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল আজিম বলেন, সহযোগীসহ কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডস্থল পাথুরিয়াপাড়ায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ ওই এলাকার সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বুধবার দুপুর ১২টায় নিহত সোহেলের বাড়িতে যান এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পরিবারের লোকজন মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, এ মামলার এজহারভুক্ত আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে গত সোমবার বিকালে সৈয়দ মো. সোহেল তার কার্যালয়ে বসে বৈঠক করছিলেন। এমন সময় একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেল নিয়ে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এ সময় তিনি ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা মারা যান। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তারা শঙ্কামুক্ত।

সোহেল ২০১২ ও ২০১৭ সালে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি প্যানেল মেয়র হন। তিনি সুজানগর এলাকার সৈয়দ মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

এদিকে এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার কেন্দ্র করেই সোহেলকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারেÑ এমন দাবি সামনে রেখেই কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা নির্বাচন ঘিরে কোনো চক্রান্ত আছে কিনা তাও বিবেচনায় রেখে তদন্তকাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি কুমিল্লা নগরীর পূর্বাঞ্চলের চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহ আলমকেই এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার।

নিহত সৈয়দ মো. সোহেলের ভাই সৈয়দ মো. রুমন দাবি করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শাহ আলম। তাকে গ্রেপ্তার করলেই সব তথ্য ও এ হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যাবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল কুমিল্লা নগরীর পূর্বাঞ্চল। এখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যেত। সৈয়দ মো. সোহেল কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ওই সব কারবার বন্ধ করে দিয়েছেন। কাউকেই এসব কারবারে জড়িত হতে দিতেন না। কেউ এমন পথে গেলে তাকে ভালো পথে ব্যবসা বা চাকরির ব্যবস্থা করতেন সোহেল। সেই থেকেই তাদের সঙ্গে সোহেলের বিরোধের সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবগ্রাম এলাকায় একটি নারীঘটিত ঘটনায় শাহ আলম ও তার দলের সঙ্গে সৈয়দ মো. সোহেলের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই নারীকে শাহ আলমের হাত থেকে সৈয়দ মো. সোহেল রক্ষা করেন। অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় শাহ আলমের সঙ্গে তার বিরোধ বাড়ে যায়। এতে সোহেলের অনুসারীদের সঙ্গে শাহ আলমের দলের লোকদের সঙ্গেও বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে।

শাহ আলম ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি আমীরের অনুসারী বলে জানা গেছে। হাজি আমীর এক সময় জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার সঙ্গে সব অনুসারী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। মূলত সৈয়দ সোহেল হত্যা মামলার সব আসামিই হাইব্রিড আওয়ামী লীগ বলে জানা গেছে। শাহ আলমসহ জিসান, সাজন, মাসুম, রনি, রকি, শাহ আলমের ছেলে জেল সোহেল- তারা সবাই এক-একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বলে এলাকাবাসী জানান। জেলেই তার বেশিরভাগ সময় কাটে বলে তাকে এলাকাবাসী জেল সোহেল বলে ডাকে। আর সবাই শাহ আলমের নেতৃত্বে চলে। শাহ আলম বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শাহ আলমের বাবা এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে মারা যান। এর পর থেকে শাহ আলম বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

advertisement
advertisement