advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নির্বাচন সফল অংশগ্রহণমূলক হয়েছে

সিইসি বললেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
advertisement

গোলযোগ-সহিংসতার মধ্যে চলমান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই দফা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশান (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কমিশনের আরও শক্ত অবস্থান থাকবে বলে তিনি আশ^স্ত করেছেন। গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় সূচনা বক্তব্যে সিইসি এসব কথা বলেন। নূরুল হুদা দাবি করেন, সামগ্রিক অর্থে নির্বাচন সফল হয়েছে। তবে অল্প বিচ্ছিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে- যেগুলো কিছুতেই কাম্য নয়। তবু নির্বাচনের মানদণ্ড যদি ভোট প্রদান হয়, তা হলে আমি বলব, দুই ধাপের নির্বাচনে গড়ে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

চলমান মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে গত ২১ জুন ও ১১ নভেম্বর দুই দফায় ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। ২০টির বেশি দল অংশ নিয়েছে এবারের ইউপি নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে। ইতোমধ্যে ইউপি ভোটে সহিংসতা নিয়ে সব মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আগে-পরে ও ভোটের দিন মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানির তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। ইসিও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘাত এড়াতে আন্তরিক হতে বলছে। এ বিষয়ে সিইসি বলেন, আমরা দাবি করি নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে আজকের সভায় পর্যালোচনা করব। ভবিষ্যতে আরও সঠিক ও শক্তভাবে কীভাবে করা নির্বাচন যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হবে।

সিইসি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। যেখানে নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল না, নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত ছিল, সেসব জায়গার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আমরা দেখেছি যে কোথাও কোথাও মারামারি হয়েছে, খুন-জখম হয়েছে। তার পরও স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন চালু রেখেছে এবং সেই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন সিইসি। প্রথম দুই ধাপের ভোটে সহিংসতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব সহিংসতা রোধ করার জন্য। একটাও সহিংস ঘটনা হবে না, মারামারি হবে নাÑ এমন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। আমরা চেষ্টা করব এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, এমন সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে, অনেককে গ্রেপ্তারের তৎপরতা চলছে। এলাকার মাস্তান যারা বিশৃঙ্খলা করতে পারে, তাদের আগাম গ্রেপ্তারের জন্য ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি।

এমপি-মন্ত্রীদের অধিকাংশই আচরণবিধি অনুসরণ করেন দাবি করে সিইসি বলেন, ‘দু-চারজন মানছেন না বলে অভিযোগ এসেছে। তাদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার জন্য। প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অতীতে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতেও প্রয়োজনে মামলা করা হবে।’

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, ইসি সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআইর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ও ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের নির্বাচন। ২৭ নভেম্বর পঞ্চম ধাপের ইউপি ভোটের তফসিল নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে নতুন ইসি চান বর্তমান সিইসি

সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সিইসি নূরুল হুদা। গতকাল কমিশনসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, পরবর্তী কমিশনের গঠন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। আমি এটাকে সমর্থন করি। নতুন কমিশন গঠনে ইসির কোনো মতামত আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন কমিশন কী হবে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো মতামত থাকে না। কমিশনের কাছে সাধারণত মতামত চাওয়া হয় না। যদি চাওয়া হয় তা হলে আমরা কমিশন বসে দেখব, আমাদের কোনো মতামত আছে কিনা।

কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন তো তৈরি করে সংসদ। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের আইনগুলো হয়। তাদের কাছ থেকে এ রকম কোনো ইঙ্গিত আসেনি যে, আইন তৈরি করতে হবে। ঐকমত্য কীভাবে হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা তো রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। গত বছর যেমন রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এটা তো রাষ্ট্রপতির বিষয়। সেটা আমরা বলতে পারব না। এটা ওই স্টেজে হতে পারে। আমাদের করণীয় কিছু নেই। ঐকমত্যের বিষয়ে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকে না।

advertisement
advertisement