advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পরমতসহিষ্ণু হতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে

সংসদে রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ০৩:৩৩ এএম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল জাতীয় সংসদে স্মারক ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ -পিআইডি
advertisement

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা, সুশীলসমাজ এবং অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ আলোচনার স্মারক বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।

এর আগে গতকাল বিকাল ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শুরু হওয়ার পর সংসদকক্ষে ঢোকেন রাষ্ট্রপতি। তার প্রবেশের সময় বিউগলে বাজানো হয় ‘ফ্যানফেয়ার’। রাষ্ট্রপতি সংসদকক্ষে পৌঁছলে নিয়ম অনুযায়ী যন্ত্রের সাহায্যে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তিনি স্পিকারের পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন। গণপরিষদ এবং দেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য আবদুল হামিদ তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও উন্নয়নের ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে দল-মতের পার্থক্য ভুলে উন্নয়নের যাত্রায় শামিল হতে সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৭৫-এর পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং উপযুক্ত নীতি ও কার্যক্রমের অভাবে অর্থনীতিতে তেমন গতিসঞ্চার হয়নি। তবে বিগত একযুগেরও বেশি সময় ধরে জাতির পিতার আদর্শের সরকার দায়িত্বে থাকায় তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে দেশ আজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে রোলমডেলে পরিণত হয়েছে।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ক্ষণে দেশের এ সাফল্য জাতির জন্য বয়ে এনেছে এক অভাবনীয় গৌরব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী ও অদম্য নেতৃত্বের জন্য আমাদের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।’

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারসহ চাঞ্চল্যকর অন্যান্য মামলার রায় দ্রুত নিষ্পত্তি করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে দেশে স্বস্তি বিরাজ করছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। সুশাসনের উদ্দেশ্যে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা, সিটিজেনস চার্টার এবং শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে করোনা ভাইরাস মহামারী প্রতিরোধ এবং এর অভিঘাত মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ সরকারের নেওয়া নানা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রপতির ২৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সংসদকক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পর স্পিকার শিরীন শারমিন অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করেন।

advertisement
advertisement