advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শীতে শিশুর ঠাণ্ডা কাশিতে সাবধানতা

ডা. অমৃত লাল হালদার
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ০৯:০৭ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

শীত এসে গেছে। আবহাওয়ায় অনেক পরিবর্তন। এ সময় শিশুর সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর অসুখ বেশি হয়। আক্রান্ত হলে দুই-তিন দিন নাক বন্ধ থাকে, নাক দিয়ে পানি ঝরে, গলা ব্যথা ও খুসখুস করে, শুকনো কাশি থাকে, জ্বরও থাকতে পারে। এগুলো বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত। লক্ষণভিত্তিক কিছু চিকিৎসা অনেক সময় আরামদায়ক হয়। তবে শিশুর শুকনো কাশি কিছুদিন বেশি ভোগাতে পারে। একটু সতর্ক থাকলেই এগুলো এড়ানো সম্ভব।

এই ঠাণ্ডা-কাশি ছোঁয়াচে। তাই যার হয়েছে, তাকে অন্যদের সামনে হাঁচি-কাশি দেওয়া থেকে বিরত রাখুন। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করুন বা করতে বলুন। জনবহুল জায়গায় নিজেকে ও শিশুকে সতর্ক রাখুন। বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক পরুন। ধুলাবালি ও ঠাণ্ডা থেকে দূরে থাকুন।

শীতে অনেকে স্নান করেন না। মনে করেন, ঠাণ্ডা লেগে যাবে। এটা ভুল ধারণা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ধুলাবালি ও ভাইরাস থেকে দূরে রাখবে। ফলে সর্দি-কাশির ঝুঁকিও কমে যাবে। শিশুদের নিয়মিত স্নান করানো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যাবশ্যকীয়। আরামদায়ক শীতের পোশাক, বিশেষ করে টুপি ও মোজা পরানো আবশ্যক। জুতা পরিয়ে রাখুন, খালি পায়ে ফ্লোর বা মাটিতে হাঁটলে সহজেই ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। রেফ্রিজারেটরের ঠাণ্ডা খাবার ও আইসক্রিম খাওয়া থেকে বিরত রাখুন। খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে দিন। ভিটামিন ‘সি’যুক্ত ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খেতে দিন। অনেকেই কলা খেলে ঠাণ্ডা লাগবে কিংবা ঠাণ্ডা বেড়ে যাবে- এমন কথা বলেন। আসলে কলা একটি নন-অ্যাসিডিক, লো গ্লাইসেমিক খাবার। তা গলা খুসখুস ও ঠাণ্ডা-সর্দি ভাব কমায়।

সাধারণ ঠাণ্ডা, সর্দি ও কাশিতে আপনার শিশুকে বেশি করে বুকের দুধ খাওয়ান। অন্যান্য খাবার অব্যাহত রাখুন। মধু, তুলসী পাতার রস, আদা চা, লেবুর শরবত বা চা, হালকা গরম পানি অল্প করে খাওয়ান। হাত-পায়ে সরিষার তেল আর রসুন মালিশ করলে কিছুটা আরাম পেতে পারে। কিন্তু নাক বন্ধ হলে অনেকে নাকের ফুটায় সরিষার তেল লাগান। এটি ঠিক নয়। ঠাণ্ডার সময় স্বভাবতই পানি খাওয়ার পরিমাণ অনেক কমে যায়। এতে পানিশূন্যতা হয়ে গলা শুকিয়ে যায় এবং কাশি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই শিশুকে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করান। ডিমের সাদা অংশ, গাজর, চিকেন স্যুপও ঠাণ্ডায় ভালো কাজ করে। শিশুর নাক পরিষ্কার রাখুন। এতে তার নিঃশ্বাস নিতে সুবিধা হবে এবং খাওয়া বাড়বে। নাক পরিষ্কারের জন্য নরমাল স্যালাইন (লবণ পানি, খাবার স্যালাইন অথবা বাজারে প্রাপ্ত স্যালাইন ড্রপ) ব্যবহার করুন। একটু বড় শিশুরা সর্দি, গলা ব্যথা বা শুকনো কাশির জন্য লবণ-পানি গড়গড়া করতে পারবে। ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হয়ে গেলে গরম পানিতে ম্যানথল মিশিয়ে ওই পানি ভাপ নাক-মুখ দিয়ে টানলে বন্ধ নাক দ্রুতই খুলে যাবে। অক্সিমেটাজোলিন বা জাইলোমেটাজলিন নাকের ড্রপও ব্যবহার করতে পারবে। তবে সাধারণ ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশিতে শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খাওয়াবেন না। কাশি হলেই কাশির ওষুধ খাওয়াবেন না। মনে রাখবেন, রোগ সাধারণ হোক বা মারাত্মকÑ যে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়াবেন, নিজের ইচ্ছামতো কিংবা অন্য কারও পরামর্শে নয়।

খেয়াল রাখুন, শিশু ক্রমেই বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে কিনা। নেতিয়ে পড়ছে, হাসে না, খেলে না, তাকায় না, জ্বর আসছে কিনা, খেতে পারছে না, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে অথবা বেশি ঘন শ্বাস নিচ্ছে, শ্বাস নিতে বুকের নিচের দিকটা দেবে যায়, বুকে সাঁই সাঁই বা চিঁ চিঁ শব্দ কিংবা কাশি দীর্ঘস্থায়ী কিনা (২ সপ্তাহ বা এর বেশি) এসবের একটি হলেই ডাক্তারের পরামর্শ দ্রুত নিন। কারণ এগুলো বিপদচিহ্ন! এ রকম হলে অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে। নেবুলাইজার দিতে হতে পারে। এক্স-রে বা অন্য পরীক্ষাও করা লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসের পর পরই ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে। কাশির সঙ্গে হলুদ বা সবুজ রঙের কফ, সঙ্গে বেশি জ্বর থাকলে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্তের আশঙ্কা বেশি। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। তাই সাবধান থাকুন।

লেখক : নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক, শিশু ও নবজাতক বিভাগ বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু হাসপাতাল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা

০১৬৩৬৬৯২২৯৮

advertisement
advertisement