advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আইনি উপায় খুঁজে বের করতে হবে

দশ মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৭৮ জন

২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ১১:১৮ পিএম
advertisement

দেশে ধর্ষণসহ নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা আতঙ্কজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নারী-শিশু দুর্বৃত্তের অস্ত্রের মুখে, প্রতারণা বা ফাঁদে পড়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি করোনাকালেও ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। এ ঘটনাগুলো থেকে প্রমাণ হচ্ছে, সামাজিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে গেছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছেÑ গত ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ১৭৮ নারী, ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে ২৭৬ নারীর ওপর, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৩ জনকে, ধর্ষণের পর লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন, শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে ও অ্যাসিডে ঝলসে দেওয়া হয়েছে ২০ নারীর শরীর। এ ছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মোট ঘটনা ছিল ২১ হাজার ৭৮৯টি। তা এর আগের অর্থবছরে ছিল ১৮ হাজার ৫০২টি। এই হিসাবে মহামারীতে এক বছরে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

করোনা ভাইরাস মহামারীর এই সময়ে বিশ্বে সহিংসতার শিকার হয়ে আগের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি নারী হেলপলাইনে ফোন করেছেন বলে ইউএন উইমেনের এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বিশেষ করে করোনা মহামারীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। কাজ হারিয়ে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে দেশে নারী নির্যাতন, বিশেষত ধর্ষণ ও হত্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিচারহীনতা বা বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণ।

সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি যেসব জঘন্য অপরাধ ও সহিংসতা ঘটেছে, তা দ্রুত বিচার আদালতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা হবে। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি এ ধরনের অপরাধ প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এর পাশাপাশি ধর্ষণ নামক ব্যাধির বিরুদ্ধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারীর শ্লীলতাহানি ও গণধর্ষণের মতো একের পর এক ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতিই প্রমাণ করে। যদিও নারী নির্যাতন রোধে নারী সংগঠন, এমনকি সরকারও সোচ্চারÑ তবু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মাত্রা কমিয়ে আনতে এই ধরনের অপরাধের তদন্তব্যবস্থা আরও আধুনিক এবং বিচারব্যবস্থা দ্রুত করা দরকার। যত ক্ষমতাবানই হোক, অপরাধীদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

advertisement
advertisement