advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কবিতা

২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ১১:১৮ পিএম
advertisement

শোকসন্ধ্যা

সিরিয়া মনি লোদী

একলা হয়ে যায় সন্ধ্যা! নিকষ কালো, নীরব আঁধার নামে যেন চারপাশ ঘিরে, আমার

দোতলার ফ্ল্যাটের মিউ মিউ কালো বিড়ালটার মতো! আঁধারে বিড়ালের চোখ জ্বলতে দেখলে

আমার এখনো ছোটবেলার মতো ভয় ভয় লাগে মনে! বাবা নেই, মা নেই! ছোট একটি

আদরের ভাইও নেই! ভালোবাসার প্রিয় ‘যে জন’ সেও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, পাঁচ মাসÑ

পাঁচ দিন হয়! শোকে সন্ধ্যা মন্দ লাগে, বিষণ্নতার দুপুর কষ্ট জাগায় বুকের ভেতর!

আলোর পানে চোখ চায়! এখন শুধু আলোই লাগে ভালো। একলা সন্ধ্যায় মন কেমন করে!

কষ্ট দুপুরে কাকের স্বর কঠিন কান্না হয়ে কানে বাজে! সন্ধ্যা, দুপুরের কাছে আমি নির্বাসিত

কী জানো? বিকেলের হাওয়া আমায় নিও তুমি, শিউলিতলার ফুল কুড়ানো মেয়েটি ক’রে

নিও এক্কাদোক্কা খেলার সঙ্গী বানিয়ে। কাশবন ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছুটে বেড়াতে পারি যেন

শরতের সুষমায়। রাতের তামস ভেঙে প্রত্যুষের আলো দেখতে পারি যেন

চোখ দুটি মেলে। আলো আমায় আগলে রাখো সকল সময়ে।

অধরার ছোঁয়া

আকলিমা চৌধুরী

কী নৈসর্গিক মোহনায় আত্মার

আপন করে নিলে নিজস্বতায়;

অমন করে বুকজমিনে কেউ-

পারেনি দখল নিতে।

পারেনি সূক্ষ্ম অনুভূতিতে ঢেউ তুলে

নিভৃতে শীতল বরফ বুলাতে

আবছায়া আঁধারি লুকোচুরি মন

আশান্বিত অভিমানী হাওয়ায়

মধুর আবেশে দীর্ঘশ্বাস ওঠে শুধু

দৃষ্টি নিমগ্ন অধরার ছোঁয়ায়!

লোনাজলের মানুষ

ইমরুল ইউসুফ

লোনা জলে ভেজা রাত

আকাশে তারার খোঁজে সেই যে বেরিয়েছে

আর ফেরেনি

লোনা জলে ভেজা দিন

সূর্যের আলো খুঁজতে খুঁজতে মাঠ সমুদ্র পেরিয়ে

এখন অন্ধ

লোনা জলে ভেজা মাটি

সুপেয় জলের টানে হাঁটতে হাঁটতে গলা

শুকিয় কাঠ

লোনা জলে ভেজা সবুজ

সম্ভ্রম হারিয়ে ক্লান্ত অবসন্ন শিকড়ের বুকে

বিষের বালি

লোনা জলে ভেজা মানুষ

লতা পাতা কুড়িয়ে চুলায় তরকারি বসায়

লবণ লাগে না।

বন্ধ্যা

সুমন সরদার

মরা নদী, পুষ্প, পাখিচোখ ঘুমের ভেতর আঁকা

কিছু আলো দূর বহুদূর মলিন খোয়াব মাখা

কী যে মানে কপালের কাছে আঁড়াআঁড়ি দাগ কাটা

আছে তবু বেদনার জলে মহারাজ নাম সাঁটা

কিছু ধান কিছু মান চোখের প্রদীপ

কিছু পানি কিছু স্র্রোত কিছু সরীসৃপ

আলো রাঙা ভিতুভোর বড় ভালোবেসে

কিছু সুখ, কিছু জ্বালা দিয়ে যায় এসে

তবু কেন সেই পোড়ামুখে বিকলাঙ্গ অনুপ্রাসে

রাত্রিপোড়া সরু ধারাপাতে রস ঝড়ে মরাঘাসে

রাতগুলো দিনে একাকার আঁধারের ঘনঘটা

কখনোই হয় না তো ঝড়ে ভেতরের ফুলফোটা

ভেতরের আলোকলি নাই যদি থাকে

বাহিরের আলো দিয়ে ফোটাবে কে কাকে...

অনুশোচনা

মাহবুবা ফারুক

আমার চোখ দুটো শুধু একদিকেই

ফিরিয়ে রেখেছিলাম স্থির,

তোমার দিকে মন ফেরাতে হয়নি অবসর,

তোমাকে তাই দেখা হয়নি কোনোদিন।

আমার হাত ছিল, বাগান ছিল ফুলময়

তবু তোমাকে ফুল দিতে পারিনি।

আমার পথ ছিল, আমার পা ছিল সবল

সময় ছিল অনুকূল, হ্যাঁ, তার পরও

তোমার বাড়ির দিকের পথ খুঁজে পাইনি।

এতকিছু থাকতেও নিশ্চয়ই নিঃস্ব ছিলাম

তাই যাওয়া হয়নি তোমার কাছে।

অবোধ ছিলাম, পেয়েও যে বোঝে না।

বিচ্ছুরণ

আরিফ হায়দার

কে জানত তোমার সাথে দেখা হবে

রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণের জলসা ঘরে।

তুমি আগের মতো চোখে চোখ রেখে

বুঝিয়ে দিলে ষড়যন্ত্রের কথা।

এখন তোমার শরীরের গড়ন ধূসর

ঠোঁটের কোণে

হাসিটা রেখেছ যত্ন করে।

আমি তো আছি বেশ এই বঙ্গভূমিতে

এখনো নৌকার পালে পূবালী বাতাস।

ভাটিয়ালি গান ধরে আগামী কিশোর

ও ষড়যন্ত্রের ডান বাম বোঝে না কিছুই।

ন্যাপথলিন

সৈয়দ ইফতেখার

তোমার ঠোঁটে গোধূলির ছায়া

ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন;

মেষপালকের মতো করে

আমার কেবলই দিন যায়।

পতাকা উড়তে দেখি,

নীল আকাশ সূর্যের আলোয়

সাদা, লাল চোখে ভাসে

সাঁঝলা হয়ে বিড়ালে ঘোরে

আমি হে, কেমন করে দেখি!

advertisement
advertisement