advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মর্যাদা বৃদ্ধির সঙ্গে থাকবে চ্যালেঞ্জও

উন্নয়নশীল দেশের পথে আরেক ধাপ

আবু আলী
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ০৯:৫১ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসির তালিকা থেকে বের হওয়ার পথে আরেক ধাপ এগোল বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি- সিডিপি বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করেছিল। গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্ল্যানারি সভায় সেই সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হলেও উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেতে বাংলাদেশকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে ওই বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের তথা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করবে।

এই উত্তরণের সুবাদে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মর্যাদা বাড়লেও বাংলাদেশকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কারণ এলডিসি হিসেবে এতদিন ধরে পাওয়া কিছু সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। ফলে রপ্তানি নিয়ে শঙ্কা দেখা দেবে, ওষুধ উৎপাদনের খরচ বাড়বে। আরও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এলডিসি থেকে বের হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো আঞ্চলিক বা দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে (যেমন ভারত, চীন) যেসব শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে, তা ২০২৬ সালের পর বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ইইউতে জিএসপির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা এর পরও আরও তিন বছর থাকবে।

তখন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর নিয়মিত হারে শুল্ক বসবে। ডব্লিউটিওর সম্প্রতি প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী নতুন মর্যাদা পাওয়ার পর বাড়তি শুল্কের কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি ৫৩৭ কোটি ডলার বা সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো কমতে পারে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের সময়কে বলেন, এখন আমাদের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আসবে। একটি হচ্ছে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত যে সুবিধা আছে, সেটি আর থাকবে না। তাই ইইউর জিএসপি প্লাসের জন্য চেষ্টা করতে হবে। সেখানে আবার বেশ কিছু শর্ত থাকে। যেমন শ্রমিক অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ইত্যাদি। আমাদের তাই সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে মেধাস্বত্ব আইন, যেটির ওপর ভিত্তি করে আমাদের ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের উন্নয়ন হয়েছে, সেটিও থাকবে না। তবে এখনো সময় আছে পাঁচ বছর। আমরা আরও সময় পেতে পারি কিনা, সে জন্য চেষ্টা করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের মোকাবিলা করা লাগবে। এ জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের দরকার আছে। রপ্তানি পণ্যের মান উন্নয়ন করে আমরা যাতে ভালো দাম পেতে পারি, সেই চেষ্টা করতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ঋণে যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিল সেখানে সুদের হার বাড়বে। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে উন্নয়নের যাত্রা যে খুব ত্বরান্বিত হবে, সেই প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। এখন আমাদের যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, সেটি মোকাবিলার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ আছে। বাণিজ্যিক চাপ, নীতিমালা তৈরিতে সুযোগ সংকোচন এবং উন্নয়ন সহায়তা কমে আসতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগে থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ বহির্বিশ্ব থেকে এখন যতটা সহজ শর্তে ঋণ পায়, উন্নয়নশীল দেশ হয়ে গেলে সেটি পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ার সুবাদে ইইউ ও কানাডার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হবে। এ জন্য জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।

advertisement
advertisement