advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

‘মডেল’ ভোটেও ৯ প্রাণহানি
আর কত রক্ত ঝরবে

৩০ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২১ ১০:৫১ পিএম
advertisement

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। সহিংসতা, গোলাগুলি, প্রাণহানিই মারাত্মক অপরাধ সংঘটনের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন।

নয়জনের প্রাণহানি, দুই শতাধিক আহত, ভোটে কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের মতো নানা গোলযোগের মধ্য দিয়ে দেশে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গত রবিবার দেশের ৯৮৬ ইউপিতে প্রায় দুই কোটি মানুষ নিজেদের পছন্দের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত করেন। এদিকে হানাহানির পরও ভোটকে ‘সহিংসতাহীন নির্বাচনের মডেল’ হিসেবে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ভোট শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এ ধাপের ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।’ তার এই আত্মতুষ্টির সঙ্গে একমত হওয়া যায় না গণমাধ্যমের খবরের দিকে নজর দিলে। আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের ঐতিহ্য বেশ পুরনো। এর মাধ্যমে কেবল সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় না, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়নও নিশ্চিত করা হয়। অতীতে যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে হতো, তখন সংঘাত-সংঘর্ষ কম হতো। এককেন্দ্রিক বাংলাদেশের শাসনকাঠামোয় কিছুটা ক্ষমতার ভারসাম্য থাকত। অনেকের মতে, দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ক্ষমতাসীন দলের বর্ধিত সংস্করণে পরিণত হয়েছে।

আইন অনুযায়ী নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে এবং সরকার কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাধ্য। নির্বাচন কমিশন তাদের ক্ষমতা কেন যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছে না, সেটি সত্যিই বিস্ময়কর। বলার অপেক্ষা রাখে না বর্তমান কমিশনের কাছে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করার সুযোগ নেই। নির্বাচন নিয়ে আমরা আর কোনো সংঘাত ও প্রাণহানি দেখতে চাই না।

advertisement
advertisement