advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এবার ওমিক্রনের হুমকি
সাবধানতার পাশাপাশি ও টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে

১ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১১:০৬ পিএম
advertisement

করোনা ভাইরাস মানবজাতিকে যে সহজে ছাড় দেবে না, তা প্রথম থেকেই বোঝা গিয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বংশগতিতত্ত্ব অনুযায়ী বারবার মিউটেশন বা পরিবৃত্তি ঘটলে ক্রমেই তার প্রাণশক্তি স্তিমিত হয়ে আসে। এদিক থেকে নতুন জাতের সংক্রমণের তীব্রতাও হ্রাস পাওয়ার কথা। কিন্তু এ অণুজীব যেন বিজ্ঞানীদের জন্য ধাঁধা হয়েই এসেছে। শোনা যাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে উদ্ভূত এ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ ক্ষমতায় ডেল্টার চেয়েও কয়েকগুণ শক্তিশালী। তবে আমাদের সময়ের খবরে দেখা যাচ্ছে- দক্ষিণ আফ্রিকার যে বিজ্ঞানী এ ধরনটি আবিষ্কার করেছেন; তিনি বলছেন এর উপসর্গ মুদু, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাদ-গন্ধ হারায় না, অক্সিজেন সংকটও তৈরি হয় না। তার বক্তব্য বরং বিজ্ঞানীদের পূর্ববর্তী ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। তারা বলেছিলেন, এ বছরের নভেম্বর নাগাদ করোনা অতিমারীর তীব্রতা হ্রাস পাবে। তবে এটি অনেকটা সাধারণ ফ্লুর মতো টিকে থাকবে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনের কারণে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বনের কথা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশ নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সারাদেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের জন্য নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশকে উচ্চসতর্কতায় রেখেছে ভারত। আবার বাংলাদেশকেও বিভিন্ন দেশের মতো আফ্রিকার দেশগুলো সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্ব করতে হচ্ছে। এর অর্থ হলো আবারও চলাচল কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশে ওমিক্রন অণুজীবে আক্রান্তকারী শনাক্ত হলে সম্ভবত আবারও লকডাউনসহ কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, তার ওপর স্বাস্থ্য সচেতনতার ঘাটতির ফলে এ ছাড়া উপায়ও নেই। তবে আমাদের মনে হয়, সরকারের মূল নজর দেওয়া দরকার টিকার দিকে। একমাত্র টিকাই পারবে করোনার সংক্রমণ প্রশমিত রাখতে সম্পূর্ণ নির্মূল করা না গেলেও।

দেশের ব্যবসায়ী সমাজ এই নতুন হুমকির মুখে আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছে। কারণ সরকার যদি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তা হলে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হয় পর্যটন খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্য। করোনার কারণে একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে কেনাকাটা হয়নি। ফলে গত দুই বছরে ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তবে শিক্ষার ক্ষতির কথাও বলতে হবে। এ ক্ষতি যে অপূরণীয়, সে কথা সরকারসহ সবাইকে মনে রাখতে হবে। আমরা আশা করব, দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানী ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজির অনুমানই সত্য হবে। তা হলে বিশ্ববাসী হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে পারবে। তবে এর মধ্যে আমাদের টিকাদান কর্মসূচি আরও গতিশীল করে দ্রুত অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষকে এর আওতায় আনতে হবে। এদিকে যারা প্রথম দিকে টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করেছেন, তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়ারও সময় এসে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে এ ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব সিদ্ধান্তই দ্রুত নিতে ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

advertisement
advertisement