advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ভূমিকা রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:৫৭ পিএম | আপডেট: ১ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৫২ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাঙালির প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সূতিকাগারের মতো ভূমিকা রাখে এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে সে কথাই বললেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে গত ১ জুলাই। কিন্তু মহামারির কারণে বন্ধ ক্যাম্পাসে সেদিন সীমিত পরিসরে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। দুই দফা পিছিয়ে আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সেই বিলম্বিত উদযাপনের সূচনা হয়।

বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ডিপার্টমেন্ট ও ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার মানই মূল সূচক।’ আর সে দিকে দৃষ্টি রেখে দেশের উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি আশা করব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ যাত্রাপথে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংগ্রামে এর অবদানের কথা তুলে ধরে আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, ‘কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে এর অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিযোগিতারও আন্তর্জাতিকীকরণ হয়েছে। তাই একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও কারিকুলাম নির্ধারণ ও পাঠদানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে। মাতা-পিতা ও অভিভাবকগণ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছেলেমেয়েদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। এ ছাড়া তাদের পেছনে দেশ ও জনগণের বিনিয়োগও যথেষ্ট। তাই শিক্ষার্থীদেরকে পবিবার, দেশ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে ‘

সম্প্রতি বাংলাদেশ যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কিন্তু এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এগিয়ে চলছে। কয়েক বছর পরই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ঢেউ বইতে শুরু করবে। তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ লক্ষ্যে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিশ্বব্যাপী সফলতার সাথে এগিয়ে যেতে পারে সেভাবে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির শুভক্ষণে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার অভিযাত্রায় বর্তমানে আমরা এগিয়ে চলেছি ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি তৈরি, যারা আমাদের এই অভিযাত্রাকে বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে কাজ করবেন।’

রাষ্ট্রপতি এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি ওয়েবসাইটের উদ্বোধন এবং ছয়টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠাতে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা পাঠান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এএসএম মাকসুদ কামাল ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

advertisement
advertisement