advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈধতা
দূষণ কমাতে কার্যকর হলেও পূর্বপ্রস্তুতি জরুরি

৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:১২ পিএম
advertisement

বাংলাদেশ নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সব সময়ই এগিয়ে থাকছে। সম্প্রতি বৈদ্যুতিক গাড়িকে বৈধতা দিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সারাদেশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা কিন্তু বৈধ নয়, কেবল কিছু কিছু মফস্বল এলাকায় সীমিতভাবে চলতে দেওয়া হয়। এগুলোকে চার্জ করতে দেখা যায়। বৈদ্যুতিক গাড়িতে সনাতন অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম আয়ন বা তার চেয়ে উচ্চতর দক্ষতার ব্যাটারি ব্যবহার করতে হবে। এ গাড়ি থেকে কার্বন নিঃসরণ হয় না এবং শব্দদূষণও থাকে না। বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৩.৪ মিলিয়ন কমাতে হবে, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। সরকার মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট গাড়ি ছাড়াও বিদ্যুৎচালিত বাস, ট্রাক, ভারী যানবাহনকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে। বিআরটিএ এই লক্ষ্যে ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২১’ প্রণয়ন করেছে। এতে অবশ্য ২০২৫ পর্যন্ত অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।

উন্নত বিশ্বে এবং প্রতিবেশী ভারতেও এখন বৈদ্যুতিক মোটরযান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পেট্রল, ডিজেল, গ্যাসচালিত গাড়ির বদলে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারকে সব দেশই উৎসাহিত করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, আগামী এক দশকের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার কমে যাবে। ফলে সেদিক থেকে পরিবর্তনের প্রস্তুতি এখনই নেওয়া জরুরি এবং একই সঙ্গে জনগণকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারে আকৃষ্ট করা প্রয়োজন। তবে আমরা একই সঙ্গে বলব, যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে কেবল আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সমস্যা ও প্রয়োজনের দিকে নজর রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় নতুন জিনিসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে প্রস্তুতির আগেই তা চালু করে পরে বিপদে পড়তে হয়। এমনটা হওয়া কাম্য নয়।

বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবন চলবে না, এর ব্যবহারও উত্তরোত্তর বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে বিদ্যুৎ নানা মাধ্যমে পরিবাহী দ্রব্য। ফলে কোনো রকম গাফিলতি বা ত্রুটি নিয়ে এ ধরনের যানবাহন রাস্তায় চলাচল হবে বিপজ্জনক। আমরা আশা করব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বিশেষভাবে নজর দিয়েই আইন প্রণয়নসহ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আশা করি বাংলাদেশ অচিরেই যানবাহনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির যুগে প্রবেশ করবে। এতে কার্বন ও শব্দদূষণ যেমন কমবে, তেমনি জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির চাপও কমে আসবে। তাতে জ্বালানির পেছনে ব্যয়ও কমবে। তবে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যদি গ্যাস ও কয়লাচালিত হয় তবে কার্বন দূষণের ক্ষেত্রে কতটা উপকার হবে তা বলা মুশকিল। সরকারকে এদিকেও নজর দিতে হবে।

advertisement
advertisement