advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

শীতের স্পর্শেও ঠান্ডা হয়নি সবজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১০:০৫ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাড়তে থাকে সবজির আমদানি। জোগান বাড়লে মূল্য হ্রাস পায়- অর্থনীতির সেই সূত্র ধরে পড়তির দিকে থাকে দাম। কিন্তু এবারের মৌসুমে সরবরাহ বাড়লেও সে তুলনায় কমেনি দামের উত্তাপ। এখনো নিম্ন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাগালে নেই বেশিরভাগ সবজি। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, শিগগিরই কমে যাবে শীতের সবজির দাম।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধাকপি ও ফুলকপির পিস কিনতে এখন পকেট থেকে খসাতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। শিমের কেজি একেক বাজারে বিক্রি হচ্ছে একেক দামে- ৩৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। পাকা টমেটো ১৪০ টাকা, গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নতুন আলুর কেজির দাম কিছুটা কমে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ৬০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির দাম স্বাভাবিকের তুলনায় চড়া রয়েছে এখনো। সব মিলিয়ে দাম নতুন করে না বাড়লেও কমছেও না খুব একটা।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘সাধারণত বছরের এমন সময় সবজির দাম দ্রুত কমে যায়।

কারণ শীতের এই সময়ে সবজির আমদানি বহুগুণ বেড়ে যায়। এবার অবশ্য তেমন দাম কমছে না। আমরা প্রতি সপ্তাহে আশায় থাকি, দাম কমবে। কিন্তু আড়তে দাম কমছে না। তাই আমাদেরকেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ কারওয়ানবাজারের সবজির পাইকারি প্রতিষ্ঠান ওয়াছি বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হাওলাদার বলেন, ‘শীতের সবজির সরবরাহ অনেক বেড়েছে ঠিকই। স্বাভাবিকভাবেই দাম কমার কথা। কিন্তু ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ভাড়া অনেকখানি বেড়েছে। পরিবহনের এ বাড়তি খরচ সবজির দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে রাজধানীতে এসে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

মালিবাগ বাজারে বাজর করতে এসে হাতাশার কণ্ঠে মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘শীতের ঠান্ডা নেমে গেছে- কিন্তু সবজির দাম ঠান্ডা হয়নি। বাজারে সবকিছুর দামে আগুন। ভেবেছিলাম শীতে অন্তত অল্প দামে সবজি খেয়ে কিছু টাকা সাশ্রয় করব। কিন্তু কই, দীর্ঘদিন ধরে চড়া দামেই সবজি কিনে খেতে হচ্ছে। সামান্য ডিমের দামটাও অনেক বেড়ে গেছে। আমার মতো সীমিত আয়ের মানুষরা কী খেয়ে বাঁচবে বুঝে পাই না। ডালের দামটাও ১০০ টাকা। চালের দামও এখন কেজিতে দুই টাকা বেড়েছে। ডাল-ভাত খেতেই কষ্ট করতে হচ্ছে।’

চলতি সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৫-১০ টাকা কমেছে। প্রতিকেজি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা পর্যন্ত। অপরদিকে সোনালির কেজি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা পর্যন্ত। বাছাইকৃত তুলনামূলক বড় আকারের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

এদিকে চলতি সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যাত্রাবাড়ী বাজারের চাল বিক্রেতা মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘আড়ত থেকে সরু চালের বস্তা (৫০ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরায় দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে যে চাল ৬৮ টাকায় বিক্রি করেছি, সেটা এখন ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ৫৬ টাকা কেজি মাঝারি চাল বিক্রি করছি ৫৮ টাকায়। গত সপ্তাহে ৪৮ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল।’

বাড়তি দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের চাল ব্যবসায়ী চাটখিল রাইস এজেন্সির ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে সব ধরনের চালের বস্তায় দাম ৫০ টাকা বাড়তি রয়েছে। মিলগেট থেকেই দাম বেড়েছে।’ এমনটা হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘চালের দাম প্রায়ই বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম ওঠানামা করে থাকে। এখন বাড়তি রয়েছে, কিন্তু সরবরাহ বাড়লেই আবার দাম কমেও যাবে।’