advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

কাঁঠালিয়ায় সুপেয় পানির সংকটে ৬০ হাজার মানুষ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:০৫ এএম
advertisement

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা, চেঁচরিরামপুর ও আমুয়া ইউনিয়নে বসানো যাচ্ছে না গভীর নলকূপ। বাধ্য হয়ে বৃষ্টির পানি, পুকুর ও ডোবার পানি পান করছেন মানুষ। রান্না, থালাবাসন ধোয়া, গোসলসহ আনুষঙ্গিক কাজ করতে হচ্ছে নোনা পানিতে। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকার প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে ভুগতে হচ্ছে পানিবাহিত রোগ-ব্যাধিতে।

কাঁঠালিয়া উপজেলার এ তিনটি ইউনিয়ন বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় নলকূপে পানি ওঠে লবণাক্ত। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল

জোনাল ল্যাব একটি ইউনিয়নে পরীক্ষা চালিয়ে আড়াই হাজার থেকে ৩০০০ পিপিএম পর্যন্ত লবণাক্ততা শনাক্ত করে, যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। ১০০০ থেকে ১৫০০ পিপিএম পর্যন্ত লবণাক্ত পানি মানব দেহে সহনশীল। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বৃষ্টির মৌসুমে পানি ধরে রাখেন বড় ট্যাংকে। সেই পানি শেষ হয়ে গেলে শুরু হয় সুপেয় পানির অভাব। দুর্গম এই এলাকার অল্প আয়ের মানুষ বছরের পর বছর ধরেই পুকুর ও ডেবার পানিতে ফিটকিরি অথবা ওষুধ দিয়ে পরিষ্কার করে পান করছেন। যাদের সামর্থ্য নেই, তারা নোনা পানি দিয়ে রান্না, থালাবাসন ধোয়া ও গোসলের কাজ সারছেন।

কাঁঠালিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশী সাইফুর রহমান জানান, তিনটি ইউনিয়নে অগভীর নলকূপ রয়েছে ৯৬টি, এর মধ্যে

অকেজ ৮টি। আশির দশক থেকে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে পুকুরপারে পানির ফিল্টার (পিএসএফ) স্থাপন করা হয় ১৭২টি; যার প্রায় সবই অকেজো। পরে লবণাক্ত দূরীকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয় চারটি, তা-ও নষ্টের পথে। পানির সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

ইউএনও সুফল চন্দ্র গোলদার জানিয়েছেন, কাঁঠালিয়াবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহে পাইপলাইন চালুর প্রকল্প নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে এটি শহর থেকে গ্রামেও পৌঁছানো হবে।