advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল
নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি

১২ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২২ ১০:৩৯ পিএম
advertisement

বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে অস্থিরতার ঘটনা বেশ পুরনো। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু থেকেই একের পর এক পেঁয়াজ, চাল, তেল, ডিম, সবজি, কাঁচামরিচসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বেড়েছে। কোনোভাবেই যেন বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে আমদানি, পরিশোধন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে দেশে যে দামে ভোজ্যতেল বিক্রির কথা- এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতিটন ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টাকায়। আমদানি ও পরিশোধন খরচ ১৫ হাজার টাকা যোগ করে দেশে এসে এর দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতিটন ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতিটন সয়াবিন তেল বিক্রি করছে ৫৬ হাজার টাকায়। ব্যবসায়ীরা বুকিংদরের অজুহাতে বাড়িয়েছেন টনপ্রতি ৬০০ টাকা। কেজিতে বেড়ে গেছে ১৫ টাকা। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটন পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকায়। দেশে সেটি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও একই অজুহাত দিয়ে প্রতিটনে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন খাতুনগঞ্জে পাম তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতিটন ৫ হাজার ১০০ টাকায়। এ রকম দাম বৃদ্ধির ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজার দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এতে ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে এ দেশের সব মানুষের কাছেই অবশ্য প্রয়োজনীয় এ খাদ্যপণ্যটির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ভোক্তারা। বিশেষ করে প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের জীবনধারণই কঠিন হয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে কত মানুষ কতভাবে আর্থিক চাপ ও দুর্দশায় পড়েছে, তা বলা কঠিন। এ অবস্থায় বাজার কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না? কারণ কি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট? সিন্ডিকেট তথা মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীচক্র বাজার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কারসাজিতে অতিরিক্ত মুনাফার জন্যই বাড়ছে দাম। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন?

বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে নিত্যপণ্যের দাম দিন দিন বাড়তেই থাকবে। দেশের বাজারে কেউ অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে কারও অপরাধ প্রমাণ হলে তাকে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে হবে বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে। এর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যেমন লাগামহীন দাম বৃদ্ধি করতে পারবেন না, তেমনি অবশ্যই বাজারে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে- যেন অন্যায্যভাবে কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করা না হয়।

advertisement
advertisement