advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অভাবের তাড়নায় কিডনি বিক্রি করছে আফগানরা

অনলাইন ডেস্ক
১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১০:৫৯ এএম | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ০২:৪৯ পিএম
অভাবের তাড়নায় কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া আফগান নাগরিক মোহাম্মাদ তাইমুরি। ছবি : দ্য টেলিগ্রাফ
advertisement

নিজেদের ভরণপোষণ মেটাতে শরীরের কিডনি বিক্রি করছেন আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ। কাজ হারিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়া আফগানরা দুবেলা দু’মুঠো খাবার জোগাতে কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ৪ থেকে ৮ হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে একেকটি কিডনি।

ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হেরাতের গোলাম হযরত নামের এক বাসিন্দা চার সন্তানের জনক। দারিদ্র্যের কারণে এই বাবা বাধ্য হয়েছেন নিজের কিডনি বিক্রি করতে। তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে রাস্তায় বের হয়ে ভিক্ষা করা সম্ভব না। কিন্তু এদিকে ঘরে খাবারও নেই। তাই বাধ্য হয়েই নিজের কিডনি বিক্রি করেছি যাতে সন্তানদের মুখে অন্তত দু’বেলা খাবার তুলে দিতে পারি।’

আফগান চিকিৎসক নাসির আহমেদ বলেন, যারা কিডনি বিক্রি করছেন এদের ৯৯ শতাংশই দারিদ্র্যের কারণে এই পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বাকি মাত্র ১ শতাংশ নিজেদের স্বজনদের সহায়তার জন্য কিডনি দান করছেন।

আহমেদ শেকিব নামে আরেক চিকিৎসক বলেন, অর্থনৈতিক কারণে যারা কিডনি বিক্রি করছেন তাদের অধিকাংশই ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটে পড়বেন। কারণ অর্থাভাবে খাদ্য সংকটের কারণে এমনিতেই তারা ভয়াবহ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন। তারপরও একটি কিডনি না থাকায় তাদের নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দেবে।

একদিকে পশ্চিমা সহায়তা আসা বন্ধ, অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের রিজার্ভের অর্থ। ফলে চরম অর্থনৈতিক সংকটে দেশটির বাসিন্দারা। তাই বাধ্য হয়েই তারা বিক্রি করছেন নিজেদের কিডনি।

আফগানরা পাগলের মতো হন্য হয়ে চাকরি খুঁজছে। কিন্তু তারা কাজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঘরের আসবাব বিক্রি করছে, শরীরের অঙ্গ বিক্রি করছে। কেউতো আবার বাধ্য হয়ে বিক্রি করছে নিজের সন্তানকেই।

প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে এরই মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

advertisement
advertisement