advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কসবায় বেপরোয়া পাহাড়খেকোরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৫০ এএম
advertisement

কসবায় একের পর এক পাহাড় কেটে সাবাড় করছে পাহাড়খেকোরা। নেপথ্যে কাজ করছে এলাকার প্রভাবশালী মহল। এতে করে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে। পাহাড় কাটায় স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের উদাসিনতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয় লোকজন ও সচেতন মহল। পরিবেশ অধিদপ্তরকে ফোন দিলেও তড়িৎ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ রয়েছে।

গত কিছুদিন যাবৎ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে পাহাড় কেটে মাটি দিয়ে নিচু জমি ও জলাশয় ভরাট করার সময় স্থানীয়রা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার সময় ত্রিপল নাইনে (৯৯৯) ফোন দিলে সেখান থেকে জরুরি মেসেজ পেয়ে কসবা থানাপুলিশ রাত ১১টায় ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে একটি টিলার আড়ালে মাটি কাটায় ব্যবহৃত ভেকু মেশিনটি লুকিয়ে রাখে। অপরদিকে ৮টি ট্রাক্টর ও চালকসহ জড়িতরা পালিয়ে যায়। পুলিশ জড়িত জয়নগর বাজারের জাহাঙ্গীর আলমের ফার্নিচারে দোকানে গিয়ে মাটি কাটতে নিষেধ করেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মধুপুর এলাকায় কাতার প্রবাসী মাসুদ মিয়ার পাহাড় কেটে জয়নগর বাজারের পাশে নিচু জমি ভরাট করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম ও বোরহান উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে গত ৩-৪ দিন যাবৎ রাতে এ পাহাড়ের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। গত রবিবার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিদর্শক জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু ওই রাতেই আবারও মাসুদ মিয়ার পাহাড়ের মাটি কেটে ৬টি ট্রাক্টর দিয়ে সরাতে থাকলে ত্রিপল নাইনে ফোন দিলে তারা কসবা থানাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে রাত সোয়া ২টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে শ্রমিকরা গা ঢাকা দেয়। পুলিশ যাওয়ার পর রাতে পাহাড়ের অবশিষ্ট অংশ কেটে মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন ও বোরহান উদ্দিন জানায়, মাসুদ মিয়া তাদের আত্মীয় হওয়ায় রাতে পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে তাদের নিজস্ব ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। তারা গত ১৪ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসনের বরাবর আবেদন করে মাটি কেটেছেন বলে জানায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মুন্সি রুহুল আমিন টিটু বলেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে। এখানে প্রশাসনের উদাসীনতাও এর জন্য দায়ী। কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটায় জড়িতরা পালিয়ে যায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সনজীব সরকার বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আবেদন জানালেও কোনো অনুমতি দেইনি।

advertisement
advertisement