advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রবেশদ্বারে সবার মুখে মাস্ক মেলার ভেতরে উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৫৩ এএম
advertisement

সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভিড় বাড়ায় এদিন মেলায় প্রবেশদ্বারে ও ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষকে। মেলায় ঢুকতে প্রধান ফটকে বাধ্যতামূলকভাবে সবাই মাস্ক পরিধান করলেও ভেতরে দেখা গেছে অন্য চিত্র। অনেককেই মাস্ক ছাড়া ঘুরতে দেখা গেছে। অনেকে থুতনিতে, হাতের কনুইয়ে মাস্ক ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন মেলায়।

চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) চালু রয়েছে এবারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। তবে ক্রেতা-দর্শনার্থীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সচিব ও মেলা পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, মেলায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার নির্দেশনা দেওয়া আছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে কঠোর অবস্থানে আছি। তিনি বলেন, মেলায় আমাদের ৩০ জন আনসার, ২৫ জন স্কাউট রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় এক থেকে দেড়শ কর্মী রয়েছেন যারা মাস্ক পরার জন্য দর্শনার্থীকে সচেতন করছে। মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ কিংবা ঘোরাঘুরি করতে পারছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মানতে লাগাতার মাইকিং চলছে। যাদের সঙ্গে একেবারেই মাস্ক নেই তাদের মাস্ক দেওয়া হচ্ছে।

মেলার প্রধান ফটকেও গতকাল দেখা গেছে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হচ্ছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় ঠেলেও সবাইকে মাস্ক পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। যাদের কাছে মাস্ক নেই তাদের মাস্ক দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেলার ভেতরে ঢুকতেই উধাও হয়ে যাচ্ছে অনেকের মাস্ক।

মাস্ক কনুইয়ে ঝুলিয়ে মেলায় ঘুরছিলেন মো. রিফাত ইসলাম আইয়াজ। বন্ধুদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা এ তরুণ বলেন, গেটে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। বাইরে থেকে মাস্ক কিনে বন্ধুরা মেলায় ঢুকেছি। কিন্তু মাস্ক পরে মেলায় এত হাঁটাহাঁটি অনেক কষ্টের। তাই একটু খুলে রেখেছি। একটু পরেই আবার পরে নেব। অল্প সময় মাস্ক খুলে রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ জানালে রিফাত বলেন, মেলা ঘুরতে এসে এতটুকু ঝুঁকি নেওয়া যেতেই পারে। তা ছাড়া ভ্যাকসিন তো নেওয়াই আছে। সমস্যা হবে না।

রিফাতের মতো তার বন্ধুরা এবং আরও অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের মুখে মাস্ক নেই। থুতনিতে মাস্ক রেখে স্টলে দরদাম করা এক নারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস্ক পরে হট্টগোলের মধ্যে কথা বলা মুশকিল। কথা বলার প্রয়োজনে মাস্ক খুলতে হয়েছে। তা ছাড়া করোনা এখন পুরনো বিষয় হয়ে গেছে। এ নিয়ে এত দুশ্চিন্তার সময় নেই। ওপরওয়ালা যা চাইবেন তাই হবে।

মেলায় ঘুরতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ আনাস করিম ও তার পরিবারের সবার মুখেই মাস্ক রয়েছে। আনাস বলেন, আমাদের ভালোর জন্যই বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। আমাদের উচিত নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলায় চলাফেরা করা। গেটে দেখলাম মাস্ক ছাড়া ঢুকতে দিচ্ছে না, আবার ভেতরে মাস্ক পরতে বারবার তাগাদা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এটি ভালো উদ্যোগ।

মেলায় দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য বলেন, আমরা দর্শনার্থীদের মুখে মাস্ক রাখার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু ভিড় বেশি থাকায় সাবার মুখে মাস্ক নিশ্চিত করাটা অনেক কষ্টসাধ্যের ব্যাপার। হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদেরও। তবু কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজে দর্শনার্থীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের মঙ্গলের জন্য এত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অথচ অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি ভালো। বেচাবিক্রিও অন্য দিনের তুলনায় ভালো। ব্যবসায়ীরা মাস্ক পরিধানসহ অন্যরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। তবে দর্শনার্থীদের অনেকে মাস্কের ব্যাপারে উদাসীন।

বেঙ্গল ব্রেইডেড রাগসের ব্যবসায়ী ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ভিড় বেশি থাকায় সবার মুখে মাস্ক্র নিশ্চিত করাটাও কঠিন। তারা হচ্ছেন ক্রেতা। তাদের কিছু বলাও যাচ্ছে না। তবে বেশ কিছু প্যাভিলিয়নে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও মাস্ক পরার বিষয়ে দর্শনার্থীদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

গত ১ জানুয়ারি মেলার ২৬তম এ আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলায় বাইরে ও ভেতরে মোট ২২৫টি স্টল রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল ও ১৫টি ফুড স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তুরস্ক, ইরান, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ১১টি স্টল রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন।

বাণিজ্যমেলা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে খোলা থাকছে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে।

মেলার প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ টাকা ও শিশুদের ২০ টাকা।

 

advertisement
advertisement