advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এবার বাড়ছে ডাল ও ডিমের দাম, স্বস্তি ফেরেনি চালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৫৬ এএম
advertisement

চড়া নিত্যপণ্যের বাজারে সীমিত আয়ের মানুষের ভোগান্তি কেবল বাড়ছেই। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে বেড়েছে ডাল ও ডিমের দাম। ওদিকে আমনের ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে এলেও চালের বাজারে মিলছে না সুখবর। সরকারি হিসাবেই মোটা চালের কেজি এখন ৪৮ টাকা হয়েছে। বাজারে যা কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ফলে গরিবেরা একটু ডাল-ভাত কিনে খাবে সে উপায়ও নেই।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৯৫ টাকা বিক্রি হওয়া মোটা দানার মসুর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ছোট দানার মসুরের কেজিতে ৫ টাকা দাম বেড়ে হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবও বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা দানার মসুরের দাম ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। যদিও সংস্থাটি বলছে, ছোট দানার মসুরের দাম এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে।

রাজধানীর মালিবাগ বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. মাসুদ রানা বলেন, ডালের বাজারে অনেক দিন ধরেই চড়া রয়েছে। মাঝে এক দফা দাম বাড়লেও সামান্য কমেছিল। এখন আবার বাড়তি রয়েছে। এ সপ্তাহে মোটা দানা ১০০ টাকা এবং ছোট দানা ১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করছি। গত সপ্তাহেও দাম বাড়তি ছিল। তবে এর থেকে অন্তত ৫ টাকা কমে বিক্রি করা গেছে।

গত চার-পাঁচ দিনে মসুর ডালের বিশেষ করে মোটা দানার মসুরের দাম এক দফা বেড়েছে বলে জানান কদমতলী সাদ্দাম মার্কেট বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিলন হোসেন। তিনি বলেন, খুচরায় এখন মোটা দানা ১০৫ টাকা এবং ছোট দানার মসুর ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মোটা দানার চাহিদা বেশি। কিন্তু বর্তমানে আমদানি কম হওয়ায় দাম বাড়তি। আগে দেশি মসুর ডালের যে বস্তা (৫০ কেজি) ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৬৫০ টাকায় কেনা গেছে, এখন ৫ হাজার ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শফী মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, ডালের সরবরাহ ঘাটতির ফলেই দাম বাড়ছে। বর্তমানে আমদানি কমেছে। আমদানি খরচও অনেক হারে বেড়ে গেছে। আবহাওয়াজনিত কারণে দেশি ডালের স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। তা ছাড়া মজুদকারীরাও বাজারে ডাল কম করে ছাড়ছেন। আড়তে যে ডাল পাওয়া যাচ্ছে তাও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই দাম এখন অনেকটা বাড়তি এখন।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকার পর হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে ডিমের দামও। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে ফার্মের ডিমের ডজন (১২ পিস) এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। বাছাই করা একটু বড় আকারের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা পর্যন্ত। মালিবাগ বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. তানভীর ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহেও ১০০ টাকা ডজন বিক্রি করা গেছে। কিন্তু গত তিন দিন ধরে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারিতেই দাম বেড়ে গেছে। তবে কী কারণে বেড়েছে তা জানা নেই বলে জানান তানভীর।

কারওয়ানবাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. হানিফ মিয়া বলেন, রাজধানীতে ডিম কম আসছে। তাই দাম বেড়ে গেছে। তবে বেশিদিন এ দাম স্থায়ী হবে না। দু-একদিনের মধ্যে সরবরাহ ঠিক হয়ে গেলে দাম আবার ১০০ টাকা ডজনে নেমে আসবে।

হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের বাজারের অস্বস্তি দিয়েই শুরু হয়েছে ২০২২ সাল। দেশের এবার আমনের ভালো ফলন হলেও চলতি মাসের শুরু থেকে চিকন চালের দাম ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রয়েছে। চিকন চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭২ টাকা পর্যন্ত। নামিদামি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে দাম আরও বাড়তি। মাঝারি আটাশ চালের দাম দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বাড়তি রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়। আগে এ চাল পাওয়া গেছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে।

এদিকে গরিবের মোটা চালের দামও ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছুদিন আগেও যে মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৫০ টাকা। খোদ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ঢাকার বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। কিন্তু বাস্তবে গুটি পাইজাম, নূরজাহানের পাইজামের মতো মোটা চালের কেজি কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৫০ টাকা।

হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও কমতির দিকে রয়েছে। তবে এখনো তা স্বল্পআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে। চলতি সপ্তাহে দাম অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে। শীতের দিনেও তরিতরকারি কিনে খেতে বেগ পেতে হচ্ছে স্বল্পআয়ের মানুষের। এরই মধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানের শসা, ফুলকপি ও শিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। ভোগাচ্ছে বরবটির দামও। এ ছাড়া পাকা টমেটো, গাজর, মুলা, শালগমের মতো বেশকিছু সবজির দাম এখনো ভোগাচ্ছে নিম্নআয়ের ভোক্তাদের।

 

advertisement
advertisement