advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে প্রতিবন্ধী ও নাটোরে দাখিল পরীক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার

আমাদের সময় ডেস্ক
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:২২ এএম
advertisement

চট্টগ্রামের হালিশহরে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অন্যদিকে নাটোরে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক দাখিল পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, হালিশহরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন- রিকশাচালক মইনুদ্দীন মুন্না ও ভ্যানচালক মো. রেজাউল। মামলার আরেক আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. শাহজাহান পলাতক। জানা যায়, নির্যাতনের শিকার কিশোরীর (১৪) বাবা রিকশাচালক, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। ওই কিশোরী ‘হাবাগোবা’ হওয়ায় তাকে ভাড়া বাসায় একা রেখে কাজে চলে যেতেন বাবা-মা। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তাকে দফায় দফায় ধর্ষণ করে আসছিল প্রতিবেশী তিন যুবক। পরে ওই কিশোরী গর্ভবতী হলে তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখে একপর্যায়ে ঘটনা জানাজানি

হয়। এর পরই বেরিয়ে আসে বিস্তারিত ঘটনা।

প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা-বাবা জানান, ঘটনা জানাজানির পর তাদের ভাড়া বাসার মালিককে বিষয়টি জানানো হয়। গত বুধবার রাতে বাড়িওয়ালা অভিযুক্ত তিন যুবককে নিয়ে সালিশে বসেন। সেখানে ধর্ষণের সাজা হিসেবে তিন যুবককে ৩ হাজার করে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাড়িওয়ালা আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযুক্ত তিনজন ও নির্যাতিত কিশোরী আমার ভাড়াটিয়া। সে জন্য নিজের মানসম্মানের ভয়ে আমি ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করি। কিশোরীর অনাগত সন্তানের ভার কেউ না নেওয়ায় সালিশের কথা প্রকাশ হয়ে যায়। পরে সালিশ ডেকে নিজে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থেকে ঘটনাটি হালিশহর থানা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ তিন যুবকের মধ্যে মইনুদ্দীন ও রেজাউলকে গ্রেপ্তার করেছে।

নগরীর হালিশহর থানার ওসি (তদন্ত) আল-মামুন বলেন, এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ওই কিশোরী গর্ভবতী কিনা, তা মেডিক্যাল রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার ছাতনী শ্মশান এলাকায় এক দাখিল পরীক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া নির্যাতিত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নাটোর সদর থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা হয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর এলাকার এক দাখিল পরীক্ষার্থী নতুন জামা বানিয়ে না দেওয়ায় মায়ের ওপর অভিমান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সদর উপজেলায় নানার বাড়িতে আসার উদ্দেশে বিকালে মাধনগর থেকে অটোরিকশায় ওঠেন ওই ছাত্রী। এ সময় অটোরিকশার এক যাত্রী তাকে নানার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। রাত ৮টার দিকে অটোরিকশাটি ছাতনি এলাকা পার হওয়ার সময় স্থানীয় কয়েক যুবক অটোরিকশাটি আটকে তাদের বিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিলে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে চারজন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

এসপি আরও জানানা, স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ভোর ৪টার দিকে নির্যাতিত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার ও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর তিনজন পালিয়ে যায়। পুলিশ নির্যাতিত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আটক পাঁচজনকে গণধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকালে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান। পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে নির্যাতিত ওই ছাত্রীর পরিবার নাটোর সদর থানায় আসে।

advertisement
advertisement