advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

শিমুকে হত্যা করে স্বামী, লাশ গুম করেছে ফরহাদ : পুলিশ সুপার

আদালত প্রতিবেদক
১৮ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:৪৪ পিএম | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:০৬ পিএম
নায়িকা শিমু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্রিফ করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

দাম্পত্য কলহের জেরেই স্ত্রী চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুকে স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল খুন করেছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি জানিয়েছেন, স্বামী নোবেল শিমুকে হত্যা করার পর লাশ গুম করতে সাহায্য করেছে নোবেলের বন্ধু ফরহাদ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়ভাবে সংবাদ পেয়ে কলাতিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের আলীপুর ব্রিজ থেকে ৩০০ গজ উত্তর পাশে পাকা রাস্তাসংলগ্ন ঝোপের ভিতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ৩২ বছর বয়সী এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। পোস্টমর্টেমের জন্য মৃতদেহটি মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে মৃতদেহের নাম পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তদন্তকালে জানা যায়, মৃতদেহটি চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর। তার বয়স ৪১ বছর এবং তিনি সপরিবারে ঢাকা মেট্রোর কলাবাগান থানাধীন গ্রীন রোড এলাকায় বসবাস করেন।’

তিনি বলেন, ‘মৃতদেহের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা পাওয়ার সাথে সাথে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার ঢাকার নির্দেশনায় কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে। তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও মামলার তদন্তকারী অফিসার ভিকটিম শিমুর বাসায় যায়। হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা শুরু করে।’

মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘খুনিরা যদিও খুবই পরিকল্পিতভাবে লাশটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুরে ফেলে যায়। তবে তারা কিছু চিহ্ন রেখে যায়। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহকে রাতেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসি। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের ফলে শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। দাম্পত্য কলহের জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৭-৮ টার মধ্যে যেকোনো সময় খুন হন শিমু। এক প্রশ্নের উত্তরে মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘শিমুকে তার স্বামী নোবেলই খুন করেছে। আর লাশ গুম করতে সাহায্য করেছে নোবেলের বাল্যবন্ধু ফরহাদ।’