advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

অটোচালককে জবাই করে হত্যা : বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড

বরিশাল ব্যুরো
১৯ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৩৭ এএম | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৩৮ এএম
পুরোনো ছবি
advertisement

বরিশালের বাকেরগঞ্জে বন্ধুকে হত্যার দায়ে আসলাম ওরফে নিজাম তালুকদার নামে একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক টি এম মুসা আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত অটোরিকশাচালকের নাম মো. রোমান। তিনি নগরীর সাগরদী ধান গবেষণা এলাকার হান্নান জমদ্দারের ছেলে। আর দণ্ডপ্রাপ্ত আসলামের বাড়ি ভোলার চরমনোষা এলাকায়। তিনি বরিশাল নগরীর চাঁদমারী মাদ্রাসা গলিতে বসবাস করতেন। নিহত রোমান ও আসলাম নগরীর বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম রিফাতের আটোরিকশার চালক ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২০ সালের ১০ জুলাই আটোরিকশার মালিক রিফাত বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৯ জুন রাতে আসলাম তার বন্ধু অটোচালক রোমানকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পিকেপি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় যান। এ সময় অটোতে আসলাম, তার স্ত্রী খাদিজা ও শাশুড়ি শাহিদা বেগম ছিলেন। ওই রাতে বৃষ্টি হওয়ায় আসলাম অটো রেখে রোমানকে নিয়ে স্কুল সংলগ্ন রাঙ্গামাটি নদীতে হাত-পা ধুতে যান। এরপর সুযোগ বুঝে গরু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে রোমানকে জবাই করে নদীতে ফেলে দেন। অটোর কাছে ফিরে এলে আসলামের স্ত্রী স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে আবার ঘাটে যান। সেখানে গিয়ে রোমানের লাশ ঘাটের পাশে দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন, এরপর দুইজনে মিলে রোমানের পেট কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেন। তারা দুইজন অটোতে এলে শাশুড়ি শাহিদা রোমানের সন্ধান জানতে চান। তখন আসলাম সরাসরি জবাব দেন, তাকে জবাই করেছি। আর এ কথা কাউকে বললে তোকেও (শাশুড়ি) জবাই করবো।

আসলাম ও তার স্ত্রী খাদিজা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে রোমানকে জবাইয়ের কথা স্বীকার করেন। পরে বাকেরগঞ্জ থেকে জবাই করা ছুরি ও অটো উদ্ধার করে পুলিশ। তবে রোমানের লাশ উদ্ধার হয়নি।

২০২১ সালের ৩১ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শাহজালাল মল্লিক আসলাম ও তার স্ত্রী খাদিজাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেন। মামলায় নিহতের শাশুড়ি শাহিদাসহ ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারক আসলামকে ফাঁসি এবং তার স্ত্রী খাদিজাকে বেকসুর খালাস দেন।