advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাবা-মায়ের বিয়ের আগেই সন্তানের জন্ম

এনআইডি নিয়ে তোলপাড়

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
১৯ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৪৬ এএম
advertisement

দশম শ্রেণির ছাত্র আবদুর রহমান। জেএসসি পরীক্ষার সনদপত্র ও এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে তার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১ মে ২০০৫ ইং। কাবিননামা অনুযায়ী তার বাবা-মায়ের বিয়ে হয় ২০০২ সালের ১ মার্চ। কিন্তু সম্প্রতি আবদুর রহমান পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও চৌকিদারকে ম্যানেজ করে একটি মিথ্যা জন্মসনদ নিয়ে নির্বাচন অফিস থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করেছেন। ওই জাতীয় পরিচয়পত্রে আবদুর রহমানের জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০০ সালের ২৬ জানুয়ারি। বাবা-মায়ের বিয়ের দুই বছর আগে জন্ম তারিখ দেখিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ ও এনআইডি বানানোর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জেএসসি পরীক্ষার সনদপত্র ও এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখিত জন্মতারিখ মতে আবদুর রহমানের বয়স এখন ১৬ বছর। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আবেদনে কৌশলে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি গোপন করেছেন আবদুর রহমান। বাবা-মায়ের বিয়ের ২ বছর আগে জন্মতারিখ উল্লেখ করে দশম শ্রেণি

পড়–য়া ছাত্রের প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র করার ঘটনায় জনমনেও সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

আবদুর রহমান কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা টিলাপাড়া এলাকার নুর কাদের ও মনোয়ারা বেগম ওরফে মনিরা খাতুনের ছেলে। উখিয়ারঘোনা সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। সম্প্রতি আবদুর রহমান বাল্যবিয়ের চেষ্টা করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা অভিযান চালিয়ে ওই বিয়ে প- করে দেন। বিয়ে নিবন্ধনের জন্যই সে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সৃজন করেছে বলে ধারণা করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ- সদ্য বিদায়ী কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও চৌকিদারের যোগসাজশে আবদুর রহমান ভুয়া জন্মতারিখ উল্লেখ করে জন্মনিবন্ধন করতে সক্ষম হয়েছে। জন্মনিবন্ধন পাওয়ার একমাসের মধ্যে সে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করেছে। এ জাতীয় পরিচয়পত্রে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন ৪র্থ শ্রেণি পাস। অথচ সে দুই বছর আগে জেএসসি পাস করে এবং বতর্মনানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন কার্ডেও তার জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয় ১ মে ২০০৫ ইং।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামু উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়- জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে ওই ছাত্রের এনআইডি সম্পন্ন হয়েছে। তা ছাড়া এনআইডি করার সময় তথ্য ফরমে ওই ছাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছে ৪র্থ শ্রেণি। এ কারণে তার সার্টিফিকেট দেখার সুযোগ ছিল না। প্রতারণার মাধ্যম এনআইডি সৃজনের জন্য সে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি গোপন রাখে।

কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে শিশু শিক্ষার্থী আবদুর রহমানের জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক। ইউনিয়ন পরিষদ ও নির্বাচন অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এ অনিয়মে জড়িত। অবিলম্বে এ এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন বাতিল করে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবদুর রহমানের বাবা নুর কাদের জানান তাদের বিয়ে স্ট্যাম্পমূলে আরও আগে হয়েছিল। এমনকি ছেলে প্রথমে মাদ্রাসায় ও পরে বয়স কমিয়ে সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। বিদ্যালয়ের জেএসসি সনদ ও এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্মতারিখ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এ ব্যাপারে উখিয়ারঘোনা সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের জেএসসি সনদপত্র এবং এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে আবদুর রহমানের জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৫ সালের ১ মে। তার বয়স কোনোমতেই ১৬ বছরের বেশি হবে না।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা আমাদের সময়কে জানান বয়স কম হওয়ার পরও জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি কার্ড করার বিষয়টি নিয়ে তিনিও অবগত আছেন। নির্বাচন অফিসের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তার এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন বাতিল করা হবে।