advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত কাজী আনোয়ার হোসেন

চপল মাহমুদ
২১ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৩১ পিএম
advertisement

‘মাসুদ রানা’ অধ্যায়ের সমাপ্তিরেখা টেনে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কাজী আনোয়ার হোসেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর বনানীর কবরস্থানে মা সাজেদা খাতুনের কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয়। বাদ জোহর সেগুনবাগিচা জামে মসজিদে জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে।

গত বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। এর পর থেকে তার মরদেহ ফ্রিজিংভ্যানে করে কাকরাইলের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় তার বাসভবন সেগুনবাগিচায়। কাজী আনোয়ার হোসেনের বাসভবনেই অবস্থিত সেবা প্রকাশনী। এ স্থান থেকেই ষাটের দশকে যাত্রা শুরু করেছিল সেবা প্রকাশনী। সেই থেকে এদেশের অধিকাংশ যুবক পরিচিত হন মাসুদ রানার মতো রোমাঞ্চকর চরিত্রের সঙ্গে। আজ কাজী আনোয়ার হোসেনের চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্তিরেখা টানা হলো রহস্যময়ী সেই পাঠকপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজেরও।

প্রিয় মানুষকে শেষবারের মতো দেখার জন্য বাসভবনে ভিড় করেন লেখক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্রয়াত লেখকের শ্যালিকা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনসহ শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বরেণ্যরা।

প্রিয় মানুষকে হারানোর শোকে এ সময় অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সেবা প্রকাশনীর লেখক নিয়াজ মোরশেদ। তিনি বলেন, এ দেশের পাঠক সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। হুমায়ূন আহমেদের আগেই তিনি এ দেশে বই পড়ার পথ তৈরি করেছিলেন। এমনকি জেলায় জেলায় নিজের গাড়িতে চড়ে মাইকিং করে বই বিক্রি করেছিলেন।

কাজী আনোয়ার হোসেনকে রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি না দেওয়ায় আক্ষেপ করে তার চাচাতো ভাই কাজী রওনাক হোসেন বলেন, অনেক অযোগ্য লেখক রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু কাজী আনোয়ার হোসেন যিনি এ দেশের কিশোর-তরুণদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করে অবক্ষয় থেকে মুক্ত রেখেছিলেন, সেই তিনি লেখক হিসেবে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। এটা আমাদের কষ্ট দেয়।

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা একজন যোদ্ধা মানুষ ছিলেন। সব সময় সাহস নিয়ে বেঁচেছেন। এ মানুষটি পরিবারকে নিয়ে থাকতে পছন্দ করতেন।

জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে মাসুদ রানার স্বত্বাধিকার নিয়ে একটি মামলা লড়েছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। সে বিষয়ে তার পুত্রবধূ মাসুমা মায়মূর বলেন, ৪৩ বছর ধরে মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজ লিখেছেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তার বইগুলোর লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিম নিজেকে দাবি করেন। কপিরাইট অফিস ও হাইকোর্টের রায় নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে এ বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত এবং বিচারাধীন।

অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের ছেলে কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৬৬ সালে সেবা প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করে ‘মাসুদ রানা’ সিরিজ লেখা শুরু করেন; দ্রুতই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিল।

পরে কাজী আনোয়ার হোসেন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ‘ঘোস্ট রাইটার’ হিসেবে অন্যদের দিয়েও ‘মাসুদ রানা’ লেখাতেন। শেখ আবদুল হাকিম ও ইফতেখার আমিন রয়েছেন সেই লেখকদের মধ্যে। দীর্ঘদিন পর লেখক শেখ আবদুল হাকিম মাসুদ রানার স্বত্ব দাবি করলে বিষয়টি আদালতেও গড়ায়। মামলা চলার মধ্যেই গত বছর আগস্টে ৭৪ বছর বয়সে মারা যান শেখ আবদুল হাকিম। এর পর এ বছর ১৯ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন কাজী আনোয়ার হোসেন।