advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

ফারজানার বাবার অনাপত্তিতে জামিন পেয়েছেন নির্যাতনকারী সেই গৃহকর্ত্রী

আদালত প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:২৪ পিএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:০৫ পিএম
ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তার। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহকর্মী ফারজানা আক্তার (১৫) যখন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তখন আদালতে তার বাবার অনাপত্তিতে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী সামিয়া ইউসুফ (সুমি)।

গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী গৃহকর্মীর বাবার অনাপত্তিতে জামিন মঞ্জুর করেছেন। যা আজ মঙ্গলবার জানা গেছে।

আসামি পক্ষের জামিন শুনানিতে বাবা বিল্লাল হোসেন ভুঁইয়া জামিনে অনাপত্তি দিয়ে বলেছেন, ‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করেছি। নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটে নাই। তাই জামিন পেলে তার কোন আপত্তি নেই।’

তবে তিনি মামলায় অভিযোগে বলেছেন, তার মেয়ে ফারজানাকে সামিয়া ইউসুফ সুমির বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। তার মেয়ে বিভিন্ন সময়ে ফোনে জানায়- সুমি তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে এবং খাবার দেয় না। তবে, অভাবের তাড়নায় সেই পরিস্থিতিতেই তিনি মেয়েকে কাজ করতে বলেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়- চলতি মাসের ১৭ তারিখ আসামি সুমি তাকে ফোনে জানান যে, ফারজানা খুব অসুস্থ। তিনি সুমির বাসায় যেয়ে ফারজানাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে লোকজনের সহায়তায় মেয়েকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে ফারজানা জানায়- গত ১৫ জানুয়ারি কাজে ভুল হয়েছে এই অজুহাতে সুমি তাকে বেধরক পেটান এবং গরম খুনতি দিয়ে শরীর বিভিন্ন অংশে ছ্যাকা দেয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে খবর দেওয়া হলে তিনি ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আসামিকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া বিষয়ে ফারজানা আক্তারের বাবার নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও ফারজানার মা কথা বলেন। তিনি জানান, জামিনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে তাদেরকে ভয় দেখানো হয়েছে, টাকার লোভ দেখানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গতকাল সোমবার তার স্বামীকে আদালতে নিয়ে কি করা হয়েছে তাও তিনি বলতে পারেন না।

পরে ফারজানার বাবা বিল্লাল হোসেন এই প্রতিবেদকের মুঠোফনে ফোন করে জানান, শনিবার তিনি আদালতে এসেছিলেন। সেসময় একটা কাগজে সই দিয়েছেন। তাতে কী লেখা ছিল, তা তিনি জানেন না।