advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

নাহিদুলের স্পিন বিষে নীল হলো বরিশাল, টানা জয় কুমিল্লার

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:০৬ পিএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:১৬ পিএম
advertisement

চার ওভার বল করে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেছেন নাহিদুল ইসলাম। এই বোলারের স্পিন বিষে নীল হয়ে যায় ফরচুন বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকেও ফেরান তিনি। আর তাতেই তার দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জয়ের পথ খোলাসা হয়ে যায়। টানা দুই ম্যাচে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে ভিক্টোরিয়ান্সরা।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তোলে কুমিল্লা। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের ৪৮ ও করিম জানাতের ঝড়ো ২৯ রানে ভর করে লড়াকু সংগ্রহ পায় তারা।

জবাবে স্পোর্টিং উইকেটেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগেছে বরিশালের ব্যাটাররা। ১৫ বল বাকি থাকতেই ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা, যা টুর্নামেন্টের এই আসরের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। আর তাতেই ৬৩ রানের জয় তুলে নেয় কুমিল্লা। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ মেইডের সাহায্যে মাত্র ৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। একে একে ফেরান সৈকত আলি, সাকিব এবং গেইলকে।


রাতে শিশিরের কারণে গত কয়েক ম্যাচে বোলারদের ভুগতে দেখা গেলেও আজ হয়েছে ভিন্ন চিত্র। শুরু থেকে আধিপত্য দেখিয়েছে কুমিল্লার বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারে কোন রান না দিয়ে সৈকতের উইকেট তুলে নেন স্পিনার নাহিদুল। তৃতীয় ওভারে এসে শিকার বানান সাকিবকে। তুলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ইমরুলের হাতে ধরা পড়েন বরিশালের অধিনায়ক, ফেরেন ৪ বলে ১ রান করে।

শুরুতে চাপে পড়ার পর দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয়। তবে এই যুগলের জুটি বড় হতে দেননি নাহিদুল। করিম জানাতের বলে হৃদয় ১৯ রান করে আউট হলে ভাঙে ২৭ রানের জুটি। একপাশে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে বরিশাল। অন্যপাশ আগলে রেখে ধীর গতির ব্যাট করেন শান্ত।

দলের বড় তারকা ক্রিস গেইলও ফেরেন মাত্র ৭ রান করে। নাহিদুলকে খানিকটা সামনে এসে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা মাইদুল ইসলাম অঙ্কনের স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়লে তিনি। দলীয় সংগ্রহ পঞ্চশ রান ছুঁতেই ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বরিশাল।

শান্তে ধীর গতির ব্যাট ও দলের রানের চাপ কমাতে দ্রুত গতিতে রান তুলতে গিয়ে খেই হারান নুরুল হাসান সোহান। ১৪ বলে ১৭ রানে আউট হন তানভীরের বলে। ১৫তম ওভারে শহিদুলের জোড়া শিকারে ব্রাভো আর জিয়াউর রহমান ফিরলে ম্যাচ হেলে পড়ে ‍কুমিল্লার দিকে। শেষের দিকে কেউ কেমন কিছু করতে পারেননি। ৩৬ রান করা শান্তকে মুস্তাফিজুর রহমান আউট করলে ৯৫ রানে গুঁটিয়ে যায় বরিশাল।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। ক্যামেরন ডেলপোর্টের সাথে ইনিংস শুরু করেন মাহমুদুল হাসান জয়। দুই ব্যাটসম্যান ঝড় তোলেন নিজ ব্যাটে। প্রথম ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে জমা করেন ২৯ রান। চতুর্থ ওভারে খানিক ছন্দপতন। ডেলপোর্টের লাগাম টেনে ধরেন নাঈম হাসান। ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বলের লাইন হারিয়ে স্টাম্পিং হন ডেলপোর্ট। ১৩ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

কুমিল্লার বড় তারকা ফাফ ডু প্লেসি আজও সাফল্যের দেখা পাননি। ১১ বলে ৬ রান করে সাকিব আল হাসানের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। অধিনায়ক ইমরুল কায়েস এসে জয়ের সাথে ২৪ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন। ডোয়াইন ব্রাভোর বলে আউট হওয়ার আগে করেন ১১ বলে ১৫ রান করেন। ৭১ রানে ৩ উইকেট হারানো কুমিল্লার হাল ধরেন জয় আর মুমিনুল হক। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৪৪ রান।

এই জুটি ভাঙেন জ্যাকব লিনটট। শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে ক্রিস গেইলের তালুবন্দী হন জয়। সমাপ্তি ঘটে জয়ের ৩৫ বলে ৪৮ রানের ইনিংসের। মুমিনুল ২৩ বলে ১৭ রান করে সাকিবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৫ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন। শেষ দিকে করিম জানাত ১টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৬ বলে ২৯ রান করেন। এতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান সংগ্রহ করেছে কুমিল্লা। বরিশালের পক্ষে ব্রাভো ৩ এবং সাকিব ২ উইকেট নেন।