advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

পারিবারিক সংক্রমণে বাড়ছে হাসপাতালে করোনা রোগী

তৈয়ব সুমন, চট্টগ্রাম
২৬ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ১১:০৫ পিএম
advertisement

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে পারিবারিক সংক্রমণ ঘটছে। হাসপাতালেও রোগী সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪৮ জন। যা গত প্রায় ছয় মাসে একদিনে সর্বোচ্চ। আর মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। চিকিৎসকরা বলছেন, পরিবারের তরুণরাই পারিবারিক সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তাদের বাইরে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে করোনা অনেকটা কমে আসবে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্ট যেভাবে সামাজিক সংক্রমণ হয়েছিল ওমিক্রন আরও বেশি সংক্রামক। এখন হাসপাতালে একই পরিবারের একাধিক সদস্য ভর্তি হচ্ছেন। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের শারীরিক জটিলতা কম দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আক্রান্তদের অনেকের অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে কম। তারা সপ্তাহখানের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এখন করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ২১-৪০ বছর বয়সীরা। তাদের হার প্রায় ৪২ শতাংশ। ৪১-৫০ বছর বয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ১৭ শতাংশ। অন্য বয়সীরা ১৫ শতাংশের কম। তবে যুবকদের তুলনায় মৃত্যুর হার বেশি ৬০ বছর বয়সীদের। ৬০ বছরের উপরের বয়সীরা মারা যাচ্ছেন প্রায় ৫৬ শতাংশ। আর যুবকরা (২০-৪০ বছর) মাত্র ২ শতাংশ।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, যুবকরা প্রতিনিয়ত ঘর থেকে বের হচ্ছেন। কিন্তু তারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। আক্রান্ত বেশি যুবকরা হলেও তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তারা মারা যাচ্ছে কম। তবে যুবকরাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মাঝে করোনা বিস্তার করছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে করোনা পারিবারিক সংক্রমণ কমে আসবে।

চট্টগ্রামের সরকারি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, বিআইটিআইডি ও আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে বর্তমানে করোনা রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন ২১০ জন। সরকারি এসব হাসপাতালে সপ্তাহ আগেও রোগী ছিল ৫০ জনেরও কম। করোনা রোগী না থাকায় এসব হাসপাতালে করোনা শয্যাকে সাধারণ শয্যায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। আর বেসরকারি পার্কভিউ, ন্যাশনাল, মেট্রোপলিটন, ম্যাক্স ও সিএসসিআর হাসপাতালে মোট রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮০ জন। বেসরকারি এসব হাসপাতালেও করোনা রোগী ছিল না।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, সংক্রমণ ও রোগী কমায় সাময়িক সময়ের জন্য শয্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রয়োজন হলেই করোনা ইউনিটের আওতায় এনে ওই সব ওয়ার্ডে পুনরায় করোনা রোগী ভর্তি করানো হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, সপ্তাহ আগেও করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা বেশির ভাগই খালি ছিল। এখন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। করোনার ওমিক্রন ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) বিস্তার ঘটে যাওয়ায় সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। ভাইরাসের এ ধরন (ওমিক্রন) অন্যান্য ধরনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সংক্রামক। খুব বেশি দ্রুত ছড়ায়। যা ইতোমধ্যে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ সামাজিক সংক্রমণ ঘটে গেছে। যার ফলে এখন টেস্ট করলেই পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফজুর রহমান বলেন, নতুন বছরের শুরু থেকে ঝড়োগতিতে এগোচ্ছে করোনা। এত দ্রুত রোগী বাড়তে আগে কখনো দেখা যায়নি। অনেক রোগী টেস্টের বাইরে রয়েছে। যত সংখ্যাক মানুষ আক্রান্ত তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যক রোগী করোনা টেস্ট করছেন। করোনা টেস্ট সহজলভ্য না হওয়ায় অনেকেই টেস্ট করাচ্ছেন না।