advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে তদন্ত চলবে বাবুলের মামলারই

মিতুর বাবার মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন পিবিআইর

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৬ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ১১:০৫ পিএম
advertisement

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদ খানম মিতু হত্যায় তার বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে একই ঘটনায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলারই তদন্ত চলবে, বলছে পিবিআই।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক চট্টগ্রাম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

জানতে চাইলে আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মিতু খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার যে মামলা করেছেন, সেটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আমরা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত সেটা গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য বলেছেন। একই ঘটনায় দুই মামলা নিয়ে আদালত পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন। আমরা আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে দ্বিতীয় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে দ্বিতীয় মামলার ডকেট প্রথম মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেছি।

মিতু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল আক্তারকে ইতোমধ্যে দুটি মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি আছেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিছুদিনের মধ্যেই এ ঘটনায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনও অভিযোগ করেন, বাবুল আক্তারই মিতুকে খুন করিয়েছেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন বছরের তদন্ত শেষে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন। গত বছরের ১১ মে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পর দিন বাবুল আক্তারের মামলায় আদালতে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। তাতে বলা হয় মামলার বাদী বাবুল আক্তারের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

ওই দিনই অর্থাৎ ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেন মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছা সিকদার, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম ওরফে সাক্কু সিকদার এবং শাহজাহান মিয়া।

২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর মামলার আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানান, বিশ্বস্ত সোর্স কামরুল ইসলাম ওরফে মুছা সিকদারকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করান পুলিশের তৎকালীন এসবি বাবুল আক্তার। পরে এ ব্যাপারে বাবুলের ঘনিষ্ঠ সাইফুল হক, গাজী আল মামুন, মোকলেসুর রহমান ইরাদ হত্যার ঘটনায় মুছার সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আদালতের কাছে তুলে ধরেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আসামি মুছা সিকদারের স্ত্রী পান্না আক্তারও আদালতে জবানবন্দি দেন।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এসব জবানবন্দির একপর্যায়ে নিজের মামলায় পিবিআইর দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন দাখিল করেন বাবুল আক্তার। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত বাবুল আক্তারের নারাজি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে পিবিআইর চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত।

ফলে মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলাটির পাশাপাশি করা বাবুল আক্তারের মামলাটিও সক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একটি মামলা সচল থাকা উচিত।

আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও নারাজি আবেদন নিষ্পত্তি করে যে আদেশ ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তাতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় পিবিআইর তদন্তকে সফল বললেও ‘টেকনিক্যাল ত্রুটি’র কথা বলেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮-এর ১৫৪, ১৫৬ ও ১৯০ ধারার বিধান পর্যালোচনার বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, ‘এটাই আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি যে, একটি আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে একটি মাত্র প্রাথমিক তথ্য বিবরণী দায়ের হওয়া উচিত।’

সূত্রমতে, আদালত উল্লেখ করেন- এজাহারের সঙ্গে তদন্তে বর্ণিত ঘটনায় ভিন্নতা পাওয়া গেলে দ্বিতীয় এজাহার দায়ের করা যাবে মর্মে মহামান্য উচ্চ আদালত বিভিন্ন সময় সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। কিন্তু বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় এজাহারে বর্ণিতমতে তদন্তকালে সত্য পাওয়া সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা কেবল বাদী তদন্তে আসামি শনাক্ত হওয়ায় মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন যা পুলিশ প্রবিধান, ১৯৪৩-এর ২৭৫ নম্বর বিধির স্পষ্ট পরিপন্থী। আদালত বলেন, বাদী তদন্তে আসামি হিসেবে শনাক্ত হলেও তাতে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ২১ ধারার বিধানমতে উক্ত এজাহারটি এজাহারকারীর বিরুদ্ধে বিচারকালে প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে।