advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

ভোটে কি নতুন ভোর পাবে লেবানন

জাহাঙ্গীর সুর
১৫ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ মে ২০২২ ০৮:২১ এএম
আমাদের সময়-এর সঙ্গে কথা বলেছেন এমপি প্রার্থী ড. হালিমি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব লাহুদ
advertisement

পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন লেবাননের নাগরিকরা। বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার পর দেশটিতে এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচনে রাজনৈতিক ও বণিক-অভিজাত বলয়কে হটিয়ে ‘সব মানুষের সরকার’ গড়ার আশায় প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন নতুন নতুন প্রার্থী। তারা কি এই ভোটে নতুন দিন উপহার দিতে পারবেন?

নির্বাচনে লড়ছেন এমন এক নতুন নেতা ড. হালিমি কাকুর। তিনি মনে করেন, লেবাননের নেতৃত্ব ও রাজনীতির ময়দান সবসময় প্রবীণ ও পয়সাওয়ালা পুরুষ নেতারা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। সময় এসেছে এই ব্যবস্থা বদলের। তবে এই নির্বাচনে সেই আশা পূরণ করা সম্ভব হবে কিনা- এই প্রশ্ন করলে আমাদের সময়কে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া অডিও সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনের আগে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। লেবানিজ ইউনিভার্সিটির আইন এবং রাষ্ট্র ও প্রশাসনবিদ্যার এই অধ্যাপক শুফ জেলার একটি আসনে সুন্নি প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।

তার মতো নতুন নেতারা আদৌ ভোটারদের মন জয় করতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। কারণ এশিয়ার দেশগুলোর মতোই পুরনো দল ও প্রবীণ নেতাদের ভোটে বেছে নেওয়ার প্রবণতা লেবানিজদের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়।

ভবিষ্যতের আইনপ্রণেতাদের বেছে নিতে ভোট দিচ্ছে লেবাননের মানুষ। এ নিয়ে গতকাল আলাপ করেছিলাম লেবাননের প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বাসাম লাহুদের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চেয়েছিলামÑ এই নির্বাচন লেবাননকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে কতখানি মুক্তি এনে দিতে পারবে। জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের শিল্প পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লাহুদ হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া অডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি মনে করি না যে, পরিবর্তন সেভাবে আসবে। এটা ঠিক, একটি নতুন সংসদ পাওয়া যাবে। আশার বিষয় হলো- লেবাননকে সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য ফরাসি ও সৌদি কর্তৃপক্ষ সমঝোতা-চুক্তি করছে। সম্ভবত এটা লেবাননকে সংকট থেকে মুক্তিতে সাহায্য করবে। তবে এটা নির্ভর করছে নতুন মন্ত্রিসভার ওপর বা যারা নতুন মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, সে অনুযায়ী পরিবর্তন দেখা যাবে।’

নবাগত প্রার্থী ও সম্ভাব্য পরিবর্তনের ব্যাপারে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কতটুকু আশাবাদীÑ এ প্রশ্নের জবাবে লেবানিজ ইউনিভার্সিটির এই গবেষক বলেন, ‘ভোটে নতুন ভোর আসবে, আশা করতে দোষ নেই। তবে আমি খুব বেশি আশাবাদী নই, আমি বাস্তববাদী।’

লেবাননের অন্যতম প্রভাবশালী দল লেবানিজ ফোর্সেসের প্রধান নেতা সামির জাজার সঙ্গে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলে তার প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি এবার নির্বাচনে দাঁড়াননি।

বার্তা সংস্থা রয়টাসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্বাচনে দাঁড়ানো নতুন মুখগুলো সেরকম সাড়া জাগাতে পারেননি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নেতার পরিবার-পরিজনই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রচার চালিয়েছে। এর কারণ হতে পারে দেশটির প্রভাবশালী সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এদের প্রভাব লেবাননের রাজনীতিতে অত্যন্ত বেশি। নতুন নেতারা এই বিশাল প্রতাপশালী গোষ্ঠীর সামনে সেভাবে জায়গা করে নিতে পারছেন না।

তবে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে- প্রবাসে থাকা এক লাখের বেশি লেবানিজ নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন গত সপ্তাহে, এদের বেশিরভাগই নতুন নেতাদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর লেবানন সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। দেশটি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। নতুন সংসদের কাজ হবে বিদেশি তহবিল সংগ্রহ করে এবং নতুন নতুন অর্থনৈতিক চুক্তি করে দেশকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনা। এ ছাড়া দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের মূল মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, ফলে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও নতুন সংসদের অন্যতম কাজ।

লেবাননের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ধর্মের প্রভাব রয়েছে। এমনকি আসন বণ্টন ও প্রার্থীসংখ্যা নির্ধারণে ম্যারোনাইট খ্রিস্টধর্ম বিশ^াসী, সুন্নি ও শিয়া মুসলিম- এসব বিবেচনায় রাখা হয়।

লেবাননের সংসদে মোট আসন ১২৮টি। ৬৫ আসনে জিততে পারলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কোনো দল। এবারের নির্বাচনে লড়ছেন না হিজবুল্লার নেতা হাসান নসরুল্লাহ, যার দল আগের নির্বাচনে ১২ আসন পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল ফ্রি প্যাট্রিওটিক মুভমেন্ট দল, ২৯টি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল যথাক্রমে অমল মুভমেন্ট (১৭ আসন) ও লেবানিজ ফোর্সেস (১৫ আসন)।