advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘নজরুল এবং বঙ্গবন্ধু : অভিন্ন স্বপ্নদ্রষ্টা’

আব্দুল্লাহ আল-মামুন
১৫ মে ২০২২ ০৪:১৩ পিএম | আপডেট: ১৫ মে ২০২২ ০৪:১৭ পিএম
advertisement

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গভীর যোগ ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উদ্ভাবনের পেছনে যে নামটি জড়িত তা হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাই তো কবির ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে ২৪ মে (১১ জ্যেষ্ঠ) ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ব্যক্তিগত উদ্যোগে কবিকে ফিরিয়ে আনেন স্বাধীন বাংলাদেশে। তিনি জানতেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে কবি নজরুল ছিলেন অবিরাম প্রেরণার উৎস। তাঁর কবিতা ও গান স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছে।

বাঙালির চেতনা ও মননে এই মহান দুই পুরুষের আবির্ভাব ছিল বাংলার আকাশে ধুমকেতুর মতো। দু’জনেই ছিলেন স্বাধীনতার অগ্নিপুরুষ। বাঙালি উজ্জীবিত হয়েছিল এই দুই স্বাধীনতাকামী মহান পুরুষের দ্বারা। ‘বাঙালির জয় হোক’ বলে যে মুক্তির কথা কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু সেই ইচ্ছাকে পরিপূর্ণতা দিলেন ‘জয় বাংলা’ বলে। দু’জনেই আজীবন সংগ্রাম করেছেন সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে। সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল, আর রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু।

নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ভারত যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছিলেন, ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল এবং বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানসিকতার দিক থেকে সমান্তরাল অবস্থানে রয়েছেন’। তিনি অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা ছিল শোষণহীন বাংলাদেশ গড়া। নজরুলও চেয়েছেন বঞ্চনাহীন, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে। দু’জনের স্বপ্ন ছিল এক ও অভিন্ন। দু’জনেই ছিলেন বিদ্রোহী। একজন সাহিত্যে, অন্যজন রাজনীতিতে। এজন্য একজনকে বলা হয় ‘পোয়েট অব লিটারেচার’, অন্যজনকে ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’।

নজরুল ও বাংলাদেশকে এমনি করে একীভূত করেছিলেন বাঙালির মহানায়ক। অসুস্থ কবির খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর নির্দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের জুলাইয়ে কবির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। বঙ্গবন্ধু তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেন। ২২ জুলাই কবিকে ভর্তি করা হয় তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। ১১৭ নম্বর কেবিনে কবির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এর প্রায় এক মাস পর ১৫ আগস্ট খুনিরা স্বপরিবারে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে। আর কবিও ফিরে যেতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বাড়িতে। হাসপাতালে এক বছরেরও অধিক সময় চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সেটাও ২৯ আগস্ট।

লেখক : ডিসি (ট্রাফিক), জিএমপি