advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নকলায় ১০ মাসের শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

নাটোরে ছাত্রাবাসে মিলল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ

শেরপুর ও নাটোর প্রতিনিধি
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ১০:৩০ পিএম
advertisement

নকলা উপজেলায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পাঁচকাহনীয়া গ্রামের একটি গোয়ালঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করে শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় লোকজন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মামা মো. জিহাদ হোসেনকে (১৮) আটক করে পুলিশ।

advertisement

নিহত শিশুটির নাম আরিয়ান। সে নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের

পূর্বলাভা খন্দকার বাড়ির সজল মিয়া ও আইরিন বেগমের ছেলে। আর গ্রেপ্তার জিহাদ হোসেন আইরিন বেগমের চাচাতো ভাই।

এদিকে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকার আর আর ছাত্রাবাস থেকে সাজ্জাদুল ইসলাম (২০ ) নামে রাজশাহী সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে লাশটি উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। সাজ্জাদ পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার আড়কান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগে আইরিন বেগম তার শিশুপুত্র আরিয়ানকে নিয়ে উপজেলার পাঁচকাহনীয়া গ্রামে বাবা আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত রবিবার দুপুরে জিহাদ হোসেন শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় খুঁজতে শুরু করেন স্বজনরা। খুঁজে না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিংও করা হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যায় আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়ির গোয়ালঘরে মুখ বন্ধ অবস্থায় একটি বস্তা দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরে এলাকাবাসী ওই বস্তা খুলে শিশু আরিয়ানকে দেখতে পেয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান তাকে (আরিয়ান) মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে নকলা থানাপুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ থেকে আরিয়ানের লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে জিহাদ হোসেনকে আটক করে।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান আজ গতকাল জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মামা জিহাদ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ শ্বাসরোধের মাধ্যমে আরিয়ানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আরিয়ানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

এদিকে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন জানান, স্থানীয়রা রবিবার সন্ধ্যায় নাটোর শহরের চেয়ারম্যান রোডের আর আর ছাত্রাবাসের একটি রুমে সাজ্জাদুল ইসলামের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ রুম থেকে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের পাশ থেকে ঘুমের ওষুধ টিপটিন-৫ এমজির ২০০টি ট্যাবলেটের খোসা পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাজ্জাদ ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানা যায়নি। পোস্ট মোর্টেম শেষে লাশ গতকাল পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাটোর সদর থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

advertisement