advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফজলি আমের জিআই স্বীকৃতির দাবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ১০:৩০ পিএম
advertisement

ফজলি আম জিআই পণ্য হিসেবে রাজশাহী জেলার পক্ষে নিবন্ধনের বিরোধিতা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পক্ষে নিবন্ধনের দাবিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিজাইন, পেটেন্ট ও ট্রেড মার্কস বিভাগে একটি আপত্তি দাখিল করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস বিভাগ এই আপত্তির যৈক্তিকতা বিবেচনা করে আগামী ২৪ মে উভয়পক্ষের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

advertisement

এদিকে ফজলি আমের জিআই স্বীকৃতির দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জের বাগানমালিক, আম ব্যবসায়ী চেম্বার অব কমার্স, সাংবাদিকসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ইতিপূর্বে মানববন্ধন

করেছে। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন তারা।

জাতীয় এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফজলি আম বলতে চাঁপাইনবাবগঞ্জকেই বোঝায় এবং সেটি প্রায় ১০০ বছরেরও অধিক সময় ধরে। দেশ বিভাগের প্রায় দেড়শ বছর আগে থেকেই মালদহ তথা গৌড়ের ফজলি আমের সুখ্যাতি রয়েছে। গৌড়ের অংশ হিসেবে সেই সুখ্যাতির পরিপূর্ণ অধিকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ১৮০০ সালের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তসংলগ্ন গৌড়ে ফজলবিবি নামে এক বৃদ্ধা বাস করতেন। সেই সময় মালদহ জেলা কালেক্টর রাজভেনশ সরকারি কাজে গৌড়ে আসেন ও ব্ররুদ্ধার বাড়ির কাছে শিবির স্থাপন করেন। কালেক্টরের আগমন বার্তা শুনে বৃদ্ধা কালেক্টরের জন্য উপঢৌকন হিসেবে তার বাড়ির আঙিনার আমগাছের আম উপহার দেন। কালেক্টর আম খেয়ে তৃপ্ত হয়ে বৃদ্ধাকে সেই আমের নাম জানতে চান। বৃদ্ধা কথা বুঝতে না পেরে তার নিজের নাম বলেন। সেই থেকে আমটির নামকরণ হয় ‘ফজলি’। রাজশাহীতে ফজলি বা অন্য কোনো আমের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি নেই। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে যেহেতু চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই সুবাদেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বলে দাবি করে। যেমনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানা হচ্ছে রেশমের সুতিকাগার এবং সমগ্র দেশের ৬০ শতাংশ রেশম সুতা সেখানে উৎপাদিত হয়। শুধু তা-ই নয়, শিবগঞ্জ হরিনগর লাহারপুরের তাঁতে বোনা রেশম বস্ত্র দেশখ্যাত। কিন্তু রাজশাহী শহরে পাওয়ারলুম বসিয়ে রেশমনগরী করে রেশমের জিআই স্বীকৃতি লাভ করেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সারাদেশে উৎপাদিত মোট আমের এক চতুর্থাংশ চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলাতেই উৎপাদিত হয়। এ জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় চার লাখ টন আম উৎপাদিত হয় যার ২৩ শতাংশ বা প্রায় ৮৫ হাজার টন ফজলি আম। যেখানে রাজশাহী জেলায় ফজলি আম উৎপাদন হয় মাত্র ২৮ হাজার টন। দেশভাগের পর থেকে সিংহভাগ আমের বিপণন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মতো বিশাল পরিমাণের আমবাগান আজও অন্য কোনো জেলায় নেই। আমের জন্য লাগসই ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া ও তাপমাত্রা প্রয়োজন তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শতভাগ নিশ্চিত করে বলেই কৃষি বিভাগের গবেষণা বিভাগ জানিয়েছে।

পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস বিভাগ যেসব শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি প্রদান করে (অর্থাৎ ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, উৎপাদন, বিপণন) সবই ফজলি আমের ক্ষেত্রে পূরণ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শুধু তা-ই নয়, বাস্তবে একটি প্রমাণ দিলে আরও স্পষ্ট হবে। যে কোনো ভোক্তার সামনে যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর ফজলি আম রাখা যায় তা হলে ভোক্তা প্রথমেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আমই বেছে নেবে। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে?

advertisement