advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
সমৃদ্ধ হচ্ছে ফিল্ম আর্কাইভ

বিনোদন সময় প্রতিবেদক
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ১১:০৫ পিএম
advertisement

চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র সংশ্নিষ্ট সামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং গবেষণার মাধ্যমে চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করাটাই ফিল্ম আর্কাইভের কাজ। নিঃসন্দেহে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। আজ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভার। ১৯৭৮ সালের ১৭ মে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভ’ নামে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। শিল্পী একেএম আবদুর রউফ ছিলেন সেই সময়ের কিউরেটর। আবদুর রউফ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাহাত্তরের সংবিধান নিজের হাতে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যে সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেছিলেন শিল্পী হাশেম খান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। ’৮১ সালে সেই ‘ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবির। তিনি কয়েক মাস মেয়াদের ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স পরিচালনা করেছিলেন এখান থেকে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভ’ নামের প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৪ সালে শুধু ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ’ নামকরণ করা হয়। জন্মলগ্ন থেকে এই প্রতিষ্ঠান ধানমন্ডির শংকরে একটি ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বমানের আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ফিল্ম আর্কাইভ ভবন। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর নবনির্মিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবন উদ্বোধন হয়। প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে, প্রতিটি কামরায় বিশ্বমানের সব আয়োজন।

advertisement

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সংরক্ষণাগারে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র ‘দি লুমিয়র ব্রাদার্স (১৮৯৫)’ সংরক্ষিত। এ ছাড়াও সংরক্ষণ করা আছে পূর্ব বাংলার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬)’, কাজী নজরুল ইসলাম অভিনীত ‘ধ্রুব (১৯৩৪)’, প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘দেবদাস (১৯৩৫)’, ‘আসিয়া (১৯৬০)’, রাশিয়ার ‘ব্যাটেলশিপ পটেমকিন (১৯২৫)’, ‘মাদার (১৯২৬)’, ‘অপুর সংসার (১৯৫৯)’, ‘জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০)’, ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৭)’ ইত্যাদি। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দলিল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের সব ভিজ্যুয়াল দলিলাদির গর্বিত সংগ্রাহক। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত সব চলচ্চিত্রকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর ও রেস্টোরেশন করে সংরক্ষণ করা হয়। ফিল্ম ডিজিটাইজেশন ও রেস্টোরেশনের জন্য কারিগরি শাখায় রিয়েল টাইম ফিল্ম স্ক্যানার, ফিল্ম রেস্টোরেশন ইউনিট, কালার গ্রেডিং ইউনিট ও ভিডিও এডিটিং প্যানেল আছে। এখানে আছে ৫০০ আসনের অত্যাধুনিক মাল্টিপারপাস অডিটরিয়াম, ৩০০ আসনের প্রজেকশন হল ও ১২০ আসনের সেমিনার হল। চলচ্চিত্রের রিল সংরক্ষণের জন্য বর্তমান আর্কাইভে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৮ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রক্ষণাগারের পাশাপাশি শূন্য ডিগ্রি এবং মাইনাস ৪, মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফিল্ম রক্ষণাগার তৈরি হয়েছে কয়েকটি। ফিল্ম আর্কাইভের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, এসব রক্ষণাগারে বর্তমানে এক হাজার ১৩৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ১১৬টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, এক হাজার ২৫৪টি বিভিন্ন ধারার চলচ্চিত্র এবং ৪৮৮টি সংবাদচিত্রসহ মোট দুই হাজার ৯৯৪টি চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করা আছে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের লাইব্রেরিতে সংগৃহীত পুস্তকসহ বিভিন্ন সামগ্রীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ১৭৫টি। আর্কাইভের কর্মকর্তা জানান, গবেষণা ও অন্যান্য কাজের জন্য নীতিমালা অনুযায়ী ছবিগুলো ব্যবহার করা যায়।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্র বিষয়ে গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত ৭০টি গবেষণাকর্ম সম্পন্ন হয়েছে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে নিয়মিতভাবে ‘বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ জার্নাল’ প্রকাশ করা হচ্ছে। এখানে দেশের প্রথম ফিল্ম মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে, যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ১৯৮০ সালে আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব ফিল্ম আর্কাইভসের সদস্য পদ লাভ করে এবং ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক অ্যাসোসিয়েশন অব অডিও ভিজ্যুয়াল আর্কাইভসের সদস্য হয়।

advertisement