advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অর্থনীতি চাপে রয়েছে
সরকারের দূরদর্শী বিচক্ষণ পদক্ষেপ দরকার

১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ১২:১২ এএম
advertisement

প্রতিবছরের মতো এবারও আগের তুলনায় আরও বড় বাজেট আসছে। বাজেটের অঙ্ক সাত লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আভাস রয়েছে। তবে আমাদের সময়ের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। অন্তত অতীতের চেয়ে এ চাপ অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা শ্রীলংকার পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও সরকার এ কথায় প্রবল আপত্তি জানাচ্ছে কিন্তু পাশাপাশি কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে অর্থনীতির ধস ঠেকানো যায়। চলতি বছর আমাদের রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ বেশ দ্রুতগতিতে কমছে- ৪৮ বিলিয়ন থেকে তা প্রায় ৪২ বিলিয়নে নেমে এসেছে। সরকারও বিলাসী পণ্য আমদানি, সরকারি খরচে বড় বহর নিয়ে বিদেশযাত্রা এবং কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

advertisement

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের অর্থনীতিবিদরা আরও কিছু ব্যবস্থার কথা বলেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে আমদানি এবং ডলারের সঙ্গে স্থায়ী মুদ্রার বিনিময় হার কমানোর সুপারিশ। শেষের কাজটিতে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা থাকলেও কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা তাতে সাশ্রয় হবে। এর মধ্যে সুখবর হলো দেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে। তবে বর্তমান চাপ ও ভবিষ্যৎ বিপর্যয় ঠেকাতে রপ্তানি আরও বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কেননা আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়কে বড় ব্যবধানে ছাপিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া আমাদের রিজার্ভের মূল উপাদান রেমিট্যান্সের প্রবাহ যে কমছে সেটিও ঠিক করা জরুরি। সময়মতো এসব পদক্ষেপ নিতে না পারলে দেশের অর্থনীতি কিন্তু বড় রকম সংকটে পড়বে। মনে রাখতে হবে, ২০২৪ সালের গোড়ায় পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন কঠিন পরীক্ষায় পড়বে বর্তমান সরকার।

জনগণ মূলত দেশের অর্থনীতি ও দেশ পরিচালনার মান পরিমাপ করে থাকে নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্য দিয়ে। দেশে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বছরদুয়েক ধরে ঊর্ধ্বমুখী। গত ঈদকে কেন্দ্র করে বাজার বরাবর চড়া রয়েছে, তার ওপর বাজারে কিছু জিনিস দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় মূল্য স্থিতিশীল হচ্ছে না। এ অবস্থায় দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে কর্মবাজার সম্প্রসারণ, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা ইত্যাদিতে মনোযোগ জরুরি। বাজারের সংকট মোকাবিলায় শ্রীলংকার মতো রিজার্ভ ও ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে বিপর্যয় এড়ানো মুশকিল হবে। অবশ্য আমরা দেশের এমন পরিণতি হবে না বলেই ভাবি। তবে সতর্কতা যে জরুরি তা সব মহল থেকেই বারবার বলা হচ্ছে। আমরা আশা করব এ সময়ে সরকার দূরদর্শী বিচক্ষণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে দেবে না।

advertisement