advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পদ্মা সেতু উদ্বোধনে তোড়জোড়

তাওহীদুল ইসলাম
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ১২:২৮ পিএম
ফাইল ছবি
advertisement

জুনের শেষ সপ্তাহে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে পারে। এমন পরিকল্পনা রেখে ১৮টি প্রস্তুতিমূলক কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রচারাভিযান, স্টেজ প্যান্ডেল, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যগত, অতিথি আমন্ত্রণ, আপ্যায়ন- এ রকম নানা উপখাতে ভাগ করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। একদিকে চলছে উদ্বোধনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। দুই পাড়ের মেলবন্ধনে তৎপর পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ।

২৫ জুন, ২৩ জুন, ৩০ জুন বা অন্য কোনো তারিখে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে তা নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারিখ যাই হোক প্রস্তুতির কমতি নেই। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি স্মারক নোট ও স্মারক রৌপ্য মুদ্রা মুদ্রণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু শীর্ষক স্মারক নোটের চূড়ান্তকরণ ও মুদ্রণের পর এ বছরের জুনের মধ্যে বাজারে ইস্যু করা হবে। আর রৌপ্য মুদ্রার ডিজাইন চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারে ইস্যু করা সম্ভব।

advertisement

এদিকে স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করা হবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে। এ জন্য ডাক ও টেলিযোগ বিভাগে অনুরোধ করা হয়। এর জবাবে ডাক বিভাগ জানিয়েছে, স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশে দুই লাখ টাকা ব্যয় হবে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে স্মারক ডাকটিকিটের ডাটাকার্ড প্রকাশের জন্য ২০০ শব্দ দিয়ে সেতুর বিবরণ পাঠানো হয়েছে।

সূত্রমতে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্পনসর সংগ্রহের মাধ্যমে ঢাকা শহরে সড়কদ্বীপগুলো পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট, পিভিসি ডিসপ্লে বোর্ড ও ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে। এ জন্য জেপিসি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দিয়েছে। পদ্মা সেতুর মূল কাজের ঠিকাদার ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। বাকি কাজ শেষ হবে জুনের মধ্যে। প্রকল্পের পরামর্শক সিএসসি প্রস্তাব করেছে ঠিকাদার তাদের কাজ শেষে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন করবে। যে অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে তা সেতু কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেবে। বাকি কাজ পরের ধাপে বুঝিয়ে দেবে। এটি ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ১০.২ ধারা অনুযায়ী বলা হয়েছে। উদ্বোধনের আগে তারা সনদ পাবে যে মূল কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে পরামর্শকের সুপারিশ থাকতে হবে। বিষয়টি সেতু বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মূল সেতুর কাজের চুক্তির আওতায় সেতুতে নীরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। এ জন্য সেতুর দুই প্রান্তে দুটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের নির্মাণকাজ মূল সেতুর ঠিকাদারের ভেরিয়েশনের মাধ্যমে নির্মাণাধীন। তবে উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রার তারিখের আগে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণকাজ শেষ হবে না। এই প্রেক্ষাপটে এখন পল্লী বিদ্যুতের (আরইবি) মাধ্যমে দুটি অস্থায়ী সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। সে অনুযায়ী ঠিকাদার এমবিইসিকে ভেরিয়েশন জমা দিতে বলা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা তিনটি কোটেশন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৬৯০ টাকা দরপ্রস্তাব করেছে। এ জন্য মূল সেতুর কাজের ভেরিয়েশন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। এখন চাইলেই এ সেতুতে গাড়ি চালানো সম্ভব। পদ্মা সেতুতে পিচ ঢালাইয়ের (কার্পেটিং) কাজ শেষ হয়েছে। সেতুতে রেলিং ও রোড মার্কিং বাদে সব কাজ শেষ।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল আমাদের সময়কে বলেছেন, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সেতু কবে উদ্বোধন করা হবে, তা সরকারের সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী যখন বলবেন, তখন থেকে সেতু চালু করা হবে। এটি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর দুই পাশে ১২ দশমিক ৩ কিলোমিটার রেলিং স্থাপন করা হবে তিন ফুট উঁচু দেয়ালের ওপর। সেতুর দুই প্রান্তে তিন দশমিক ১৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্টে আরও ৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার রেলিং স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু দেশের দীর্ঘতম সেতু। ৪২টি পিয়ারে (খুঁটি) ৪১টি স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর পদ্মার দুই তীর যুক্ত হয়েছে সেতুতে। সেতু হয়ে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকায়। দ্বিতল পদ্মা সেতুর লোয়ার ডেক বা নিচতলায় চলবে ট্রেন। লোয়ার ডেকে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে আগামী জুলাইয়ে। ১১ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন যৌথভাবে পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের কাজ করবে।

 

advertisement