advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এবার শঙ্কা জাগাচ্ছে গম

আবু আলী
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ০৯:৫১ এএম
ফাইল ছবি
advertisement

পেঁয়াজ, চাল ও তেলের পর নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে গমের। বিশ্বের প্রধান দুই গম রপ্তানিকারক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকেই গমের বাজারে উত্তাপ দেখা দেয়। নতুন করে ভারত রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞায় সংকট আরও বাড়ছে। তবে সরকার বলছে গমে সংকট নেই। গম আমদানিতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আরও ৫ দেশ থেকে গম আমদানির পথ খোঁজা হচ্ছে।

একের পর এক ইস্যুকে কেন্দ্র করে একেকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। পেঁয়াজ, তেলের পর এবার গমের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের পর এবার ভারত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরই গমের সংকট দেখিয়ে বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। যদিও সরকার বলছে, ভারত থেকে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি করা যাবে। কারণ, গম রপ্তানি বন্ধ করলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য সুযোগ রেখেছে দিল্লি। সরকারও গমের বাজার স্বাভাবিক রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভারত গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর সরকার আরও পাঁচটি দেশ থেকে গম আমদানির পথ খুঁজছে। কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে গম আমদানির বিষয়ে কথা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী হিসেবে ভারত আমাদের গম দেবে। গম নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

advertisement

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশে বছরে গমের চাহিদা ৭০ লাখ টন। দেশে উৎপাদন হয় ১২ লাখ ৩৪ হাজার টন। বাকিটা আমদানি করা হয়।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে তিন মাসের ব্যবধানে ভারত থেকে বাংলাদেশের গম আমদানির অংশ দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আরও গম আনতে নতুন করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তি করা নিয়ে কথা চলছে। বুলগেরিয়া থেকেও ২ লাখ টন গম আনার আলোচনা চলছে। দেশে মাসে সাড়ে ৬ লাখ টন গম প্রয়োজন। এ জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে এর সবই চলে আসবে। দুই-একদিনের মধ্যে আসবে এক লাখ টন।

গম আমদানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। চাহিদার ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টন গম দেশে এসেছে। বাংলাদেশ মোট গম আমদানির ৬৩ শতাংশ রাশিয়া ও ইউক্রেন, ১৮ শতাংশ কানাডা এবং বাকিটা যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়াসহ আটটি দেশ থেকে আনে। ভারত গম রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়মিত। উৎপাদন বেশি হলেই দেশটি রপ্তানি করে। দুই বছর ধরে ভারত থেকে বেশি পরিমাণ গম আমদানি করছে বাংলাদেশ।

খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানি হয়েছিল ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টন। গত অর্থবছরে সরকার সরাসরি গম আমদানি করেছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টন। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত আমদানি করেছে চার লাখ ৭৮ হাজার টন। বর্তমানে সরকারের কাছে মজুদ আছে এক লাখ ১২ হাজার টন গম।

সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির চেষ্টা ছাড়াও বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ বাজার নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বিকল্প উৎস থেকে গম আমদানির চেষ্টা করতে হবে। তবে ভোক্তাদেরও বেশি দামে কেনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। কারণ এই সংকট এখন বিশ্বব্যাপী। সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে তিনি সরকারের তৎপরতার ওপরও জোর দেন। সয়াবিন তেলের মতো সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন।

advertisement