advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রেমিকার বাড়ির পাশে প্রেমিকের ক্ষত-বিক্ষত লাশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
১৭ মে ২০২২ ০৫:২১ পিএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ০৯:১৩ পিএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া এলাকায় প্রেমিকার বাড়ির পাশ থেকে মোহাম্মদ সাকিব (২৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সাকিবকে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বরুমচড়া রাস্তার মাথা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত সাকিব চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া এলাকার দরফ আলীর ছেলে। তিনি আনোয়ারা সদরে সাদ মুসা গ্রুপের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন।

নিহত সাকিবের বড় বোন নাজমিন আক্তার বলেন, ‘পাশের বাড়ির মুখলেছ রহমানের মেয়ে আয়শা ছিদ্দিকা নূপূরের সঙ্গে তার ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর গত শুক্রবার মেয়ের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারা কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সাকিবের মেয়ে বিয়ে দিতে চায়। এতে আমার ভাই রাজি ছিল না। পরে সাকিব নিজেই এই বিয়েতে অসম্মতি জানায়।’

নাজমিন বলেন, ‘গত রোববার সন্ধ্যায় সে ঘর থেকে বের হয়। আমরা মনে করছি, ফ্যাক্টরিতে রাতের ডিউটিতে গেছে। পরদিন সারাদিন ঘরে না আসায় খোঁজাখুঁজি করি। রবিকেলে নূপূরদের ঘরের সামনের সবজি বাগানে আমার ভাইয়ের ক্ষত-বিক্ষত লাশটি এলাকার এক মুরব্বি দেখে আমাদের জানান। আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বিয়েতে রাজি না হওয়ায় আমার ভাইকে নূপূরের পরিবারের লোকজন খুন করেছেন।’

নিহতের মামা মো. ইদ্রিচ বলেন, সাকিবের মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম ও মাথা ফেটে মগজ পর্যন্ত বের হয়ে গেছে। মারার পর সাকিবের মুখে, শরীরে বিষ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাকিবের লাশের সন্ধান পাওয়ার আগেই নূপূরের পরিবারের সবাই ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। তারা যদি খুন না করে, তাহলে সাকিবের লাশ পাওয়ার আগেই তারা পালালো কেন? নিশ্চয় তারা খুন করেছেন। খুন করে সাকিবের সারা শরীরে বিষ ঢেলে দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, নিহত সাকিবের পরিবারের অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। সাকিবের পরিবার নূপুর নামের একটি মেয়ের পরিবারকে দায়ী করছেন। মেয়েটির সঙ্গে সাকিবের বিভিন্ন ছবি ও হাতের লেখা চিঠি থানায় দিয়েছে সাকিবের পরিবার। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।