advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ

ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান
১৮ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ মে ২০২২ ১২:২৩ এএম
advertisement

দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ উল্টো পথে চলতে থাকে। বাংলার স্বাধীনতার চেতনার সূর্যটা অস্তমিত হয়ে যায়। দেশ অন্ধকারে পতিত হয়। শুরু হয় ইতিহাস বিকৃতি। যে পাকিস্তানি ভাবধারা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবনদান পাকিস্তানি সেই সাম্প্রদায়িক ভাবধারা দেশে পুনরায় জাগ্রত হয়। ধর্মান্ধ-মৌলবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় সারাদেশ। শোষক শ্রেণির হাতে চলে যায় দেশের নিয়ন্ত্রণ। সঠিক নেতৃত্বহীন ও দিকহারা হয়ে যায় লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ। অযোগ্য, অসৎ, মানবিক গুণহীন মানুষের কাছে চলে যায় দেশের নেতৃত্ব। শুরু হয় মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। তবে তখনো বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা নামক আশার আলো নিভু নিভু প্রদ্বীপের মতো জ্বলছিল। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশে থাকার কারণে ঘাতকদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান। এটা ছিল আল্লাহর অশেষ রহমত। আসলে বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ। আর সেই দেশকে সব দিক দিয়ে পুনর্গঠনসহ বাংলার মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তিদান এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্যই মহান আল্লাহ বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা ও কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসার পরও তাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে খুনিদের সে চেষ্টা বারবারই ব্যর্থ হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যার প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া আজকের বাংলাদেশ। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুনরায় বাংলাদেশকে স্বাধীনতার চেতনার পথে এগিয়ে নিয়ে যান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক এবং শোষণহীন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। বাংলাদেশের মানুষ পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেকে শিহরিত করার সুযোগ পায়। যে কারণেই আমি বলেছি, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বাংলাদেশের যেন দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন।

আমি বিশ্বাস করি, এই দেশের জনগণেরও বিশ্বাস তাই, আর সেটা হলো-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। বাংলাদেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকলে পথ হারাবে না আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশে থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি, অবকাঠামো, কৃষিসহ সব ক্ষেত্রেই উন্নতি লাভ করেছে। সব বাধা অতিক্রম করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যথার্থ বাস্তবায়ন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ অবশ্যই একদিন উন্নত দেশে পরিণত হবে।

এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যখন বিদেশে অবস্থান করছিলেন তখন তাকে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা জননেতা জিল্লুর রহমান, আব্দুস সামাদ আজাদ, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, আইভি রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, বেগম জোহরা তাজউদ্দীন, আব্দুল মালেক উকিলসহ অনেকে। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। বুকভরা অসীম শোককে ধারণ করে নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনতে তার দুই শিশু সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ছোট বোন শেখ রেহানার কাছে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে প্রায় ৬ বছর ভারতে অবস্থান করেন। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে ঝড়-বৃষ্টির মাঝে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ফিরে এসেছিলেন। মুষলধারার বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে সেদিন বিমানবন্দরে লাখো মানুষ অপেক্ষা করছিল কখন আসবেন তাদের প্রাণের নেত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন বিমানবন্দরে মানুষ স্লোগান তুলেছিল ‘ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে, আমরা আছি তোমার সাথে’, ‘পিতৃহত্যার বদলা নিতে, লক্ষ ভাই বেঁচে আছে’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি।

দেশের মাটিতে পা দিয়ে লাখ লাখ মানুষের সংবর্ধনায় আপ্লুত শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ ‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই।’ শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।‘ তিনি আরও বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিতেই হয়, মৃত্যুকে ভয় করলে জীবন মহত্ত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।’

দেশে ফেরার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ১১ বছরেরও বেশি সময় তিনি ছিলেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশে যা ছিল এক সময় কল্পনাতীত।

পরিশেষে বলব, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা মহান আল্লাহতায়ালার রহমতে তিনি যেন শতায়ুপ্রাপ্ত হন এবং অবশ্যই ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনার সুযোগ পান। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে এবং দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবেই। বাংলাদেশের জনগণ হবে বিশ্বের বুকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী উন্নত দেশের সৌভাগ্যবান গর্বিত নাগরিক।

 

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ ও কোষাধ্যক্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।