advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুসিক নির্বাচন
আফজল-বাহার গ্রুপের বিরোধ ফের প্রকাশ্যে

সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, কুমিল্লা
১৮ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ মে ২০২২ ১২:৫২ এএম
advertisement

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভেতরের বিরোধ। মেয়র পদে বড় এ দুদলেরই রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে আগেই প্রার্থী করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতকে, যিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে মনোনয়নপ্রত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র

advertisement

জমা দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দলটির প্রয়াত নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। তিনি কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি।

এদিকে বিএনপি সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলটির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। এর কিছুক্ষণ পরই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের শ্যালক মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগর শাখার সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সারও মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের বাইরে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন আরও দুজন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আরফানুল হক রিফাতকে নৌকার প্রার্থী ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে ভোট চান আফজল খানের বড় মেয়ে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা। আর তাতে কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের আফজল ও বাহার গ্রুপের চিরবিবদমান বিরোধ অবসানের ইঙ্গিত পান স্থানীয়রা। কিন্তু সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গতকাল বিকালে একেবারে শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন সীমার ছোট ভাই মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। তার পক্ষে জসীম উদ্দিন নামে একজন হাইস্কুল শিক্ষক মনোনয়নপত্র জমা দেন বলে জানা গেছে। এর ফলে বহুদিন ধরে জিয়ে থাকা আফজল ও বাহার গ্রুপের বিরোধ যেন প্রকাশ্যে আসে।

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল সকাল থেকেই কুমিল্লা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেন, ‘কুমিল্লার উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন। মানুষ এখানে পরিবর্তন চায়। কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা, যানজটসহ অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান করব।’ মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তার ছোট ভাই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘মনিরুল হক সাক্কু মানুষের কথায় নির্বাচন করছেন। কুমিল্লার মানুষের জন্য প্রায় ১৭ বছর কাজ করেছেন- তা মানুষ জানে। এর প্রতিদান কুমিল্লাবাসী ভোটের মাধ্যমে দেবে।’ দলের প্রতি আস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাক্কু আমৃত্যু একদলেই থাকবেন। তিনি বলেছেন, দল থেকে পদত্যাগ মানে অন্যদলে যোগদান নয়। মানুষের কথা ভেবে যদি দল ছাড়তে হয় তিনি তাও করবেন।’

নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, ‘আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র (সাক্কু)। তাকে আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবেই দেখি। তাই আমার দল ও কুমিল্লার মানুষের আস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’ দলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দল আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেনি। তবে আমি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে একটি নিশ্চিত চেয়ার অন্য দলের দখলে চল যাবে- তাই আমি নির্বাচন করছি। যদি এতে দল কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তা আমি মেনে নেব।’ মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের পক্ষে মনোনয়ন জমা দিয়ে তার প্রতিনিধি জসীম উদ্দিন বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন বা ক্লিন ইমেজের অধিকারী মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। কুমিল্লাবাসীর উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এবং নগরবাসীর চাপে তিনি নির্বাচন করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে বলে দাবি করেন দলের নেতাকর্মীরা। কুমিল্লা টাউন হলে গতকাল মঙ্গলবার রিফাতের পক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময়সভায় এ দাবি করা হয়। সভায় নেতারা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আরফানুল হক রিফাতকে মাদকের পৃষ্ঠপোষক উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, যা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর ও আতিকউল্লাহ খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক চিত্তরঞ্জন ভৌমিক ও আবদুল হাই, সদস্য হেলাল উদ্দিন আহমেদ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক জিএস সহিদ, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাদেকুর রহমান ও মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবদুল আজিজ সিহানুক।

আতিকউল্লাহ খোকন বলেন, আরফানুল হক কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে কষ্টিপাথরে যাচাই করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, রিফাতের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার আগে লেখা হয়নি। মনোনয়ন পাওয়ার পর লেখা হয়েছে। ২০১৮ সালের একটি তালিকা নিয়ে ২০২২ সালে প্রতিবেদন করা হয়েছে। মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মানহানির মামলা করেছি।

advertisement