advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডিজিটালে জোর দিচ্ছে বিসিবি

এম.এম. মাসুক
২৩ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ১০:৫৯ পিএম
advertisement

পৃথিবীর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো যখন ডিজিটাল দুনিয়ায় দুর্বারগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগে তাদের নামেমাত্র একটি ফেসবুক পেজ ছিল। যেটির কার্যক্রম ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ওয়েবসাইটও ওই রকম আপটেড ছিল না। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম টেস্টের খেলা দেখানোর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে বিসিবির ডিজিটিল ব্যাপারগুলো। তবে এবার তৎপর হচ্ছে বিসিবি। আরও ডিজিটাল হওয়ার প্রতি বেশ জোর দিচ্ছে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। এরই মধ্যে ফেসবুক পেজ আপডেট করা হয়েছে। আগে তৃতীয় পক্ষের কাছে ফেসবুক পেজ পরিচালনার দায়িত্ব থাকলেও এখন সেটি বিসিবি নিজেদের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি টুইটারেও সরব হচ্ছে বিসিবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি বিসিবির ওয়েবসাইটের কাজ প্রায় শেষের পথে। আন্ডার কনস্ট্রাকশনে থাকা ওয়েবসাইটে নতুনত্ব আসছে। এ ছাড়া ইউটিউব ও অনলাইন কর্মকা- বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে বোর্ড। নতুন করে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম ঢালাওভাবে সাজানোর ব্যাপারে বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু অনেক পরিকল্পনা ও নতুনত্বের কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘বিসিবির ফেসবুক পেজে দেখেছেন যে আমরা আপডেট করে ফেলেছি। আমাদের যত ভিউয়ার ছিল, সাবক্রাইবার ছিল- গত ছয় মাসে এটি প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এটি খুবই ভালোভাবে চলছে। আমরা আশা করছি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি যে অবস্থায় আছে, আবারও দ্বিগুণ হয়ে যাবে।’

advertisement

নিজেদের ফেসবুক পেজের জন্য আলাদা কনটেন্ট ক্রিয়েটিভ টিম তৈরি করছে বিসিবি। এই টিম প্রতি মুহূর্তের খবর যেগুলো ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে, সারাদেশের ‘এ’ টু ‘জেড’ যত খবর আছে, সেই কনটেন্টগুলো পেজে দেওয়ার চেষ্টা করবে টিমটি। পাশাপাশি টুইটার নিয়েও কাজ করছে বিসিবি। তানভীর আহমেদ টিটু জানান, ‘আমাদের টুইটারের যে অ্যাকাউন্ট সেটি ওই অনুযায়ী কাজ করছি।’ বিসিবির একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। তবে আরেকটি নতুন ইউটিউব চ্যানেল খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিসিবির নিজস্ব স্টুডিও তৈরি করবে। নতুন ইউটিউব চ্যানেলে কী দেখানো হবে? টিটু বলেন, ‘আমাদের যেগুলো খেলা দেখানো হয় এবং ক্রিকেট সম্পর্কিত যে নিউজগুলো হয়- সেগুলো আমরা আমাদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে দেখাব। সেখানে আমরা নিজেরাই প্রডাকশনে যাব।’

ওয়েবসাইটের কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ হয়েছে। আর দুই শতাংশ যে কাজ বাকি আছে, সেটি ফাইন টিউন, কালার ম্যাচিং, ব্যাকগ্রাউন্ডটা কী হবে- সেটির একটি ফাইন টিউনিং দেওয়া হচ্ছে। বিসিবির ওয়েবসাইটে আরও নতুন কিছু অন্তর্ভুক্তি আনা হয়েছে। তানভীর আহমেদ টিটু বলেন, ‘গত সভায় আমরা সেখানে আরও কিছু ইনপুট দিয়েছি। যাতে আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে নতুন কিছু জিনিস যা ছিল না। যেমন একজন জার্নালিস্ট তাকে সিরিজের সময় অ্যাক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করতে হয়। এগুলো আগে আলাদাভাবে ছিল। সেগুলো আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছি। বাংলাদেশে যখন ট্যুর হবে, অন্য কোনো দেশ যখন বাংলাদেশে আসবে, তখন ওই দেশের জার্নালিস্টদের আলাদাভাবে লিংক পাঠাতাম, তারা সেই লিংকে আবেদন করত। এই আবেদনটি আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছি। যাতে এক জায়গায় ঢুকলেই তারা সব কিছু পেয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা আর্কাইভও রাখার পরিকল্পনা করছি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে হিস্ট্রি ও জার্নি- যেটি আছে সেগুলো আর্কাইভে থাকবে। যাতে আজ থেকে ২০ বছর পর অথবা আজ থেকে ২০ বছর আগের জিনিস অর্থাৎ ৪০ বছর আগের জিনিস যেন পাওয়া যায়। সেই ধরনের সব কিছু যেন থাকে। এ জন্য আমরা একটা আর্কাইভ সেকশনও করছি।’ এ ছাড়া ওয়েবসাইটে আরও কিছু ছোট ছোট অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে। যাতে খুব সহজেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভার্সনেও দেখা যাবে ওয়েবসাইট। বাংলায় পড়তে চাইলে একটি ব্যাটনে ক্লিক করলেই বাংলা ভার্সন চলে আসবে। ওয়েবসাইটের ফাইন টিউনিংয়ের কাজ শেষ হলে একটি তারিখ নির্ধারণ করে ঘোষণা দিয়ে নতুন ওয়েবসাইট যাত্রা শুরু করবে।

সাংবাদিকদের ডিজিটাল অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। জানা যায়, প্রাথমিক অবস্থায় এক বছর কিংবা দুই বছরের জন্য করতে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। প্রত্যেকটি মিডিয়া হাউসকে কাউন্ট করে এই কার্ডগুলো দেওয়া হবে। যাতে বছরব্যাপী কাজ করতে পারেন সাংবাদিকরা। এ প্রসঙ্গে তানভীর আহমেদ টিটু বলেন, ‘আমাদের এখানে ডিজিটাল অ্যান্ট্রি পয়েন্টে যদি আমরা কন্ট্রোল সিস্টেম করি, সেখানে তারা সেটি পাঞ্চ করে চলে আসতে পারবে। কে এলো, কে গেল, সেটি সঙ্গে সঙ্গে জেনে যেতে পারব। এই পরিকল্পনা সাবমিট করা হয়েছে। এগুলো অনুমোদন হয়ে চলে এলে আমরা কাজ শুরু করব।’

বিসিবির প্রস্তাবনায় রয়েছে- দেশের যত খেলা হয়, লিগ, টুর্নামেন্ট- এসব খেলা অনলাইনের মাধ্যমে দর্শকদের দেখানোর ব্যবস্থা। বিসিবি পরিচালক টিটু বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড যখন কিছু প্রদর্শন করে, সেখানে রাইট বিক্রির একটা ব্যাপার থাকে। স্পন্সর যখন থাকে, যেমন- কিছু দিন আগে আমরা যখন স্কুল ক্রিকেট করলাম, স্কুল ক্রিকেট টেলিকাস্ট করেছিল টি-স্পোর্টস। স্কুল ক্রিকেটের ফাইনাল সারাদেশে টেলিকাস্ট হয়েছে। এ রকম টেলিকাস্টের ব্যাপারগুলো যখন আমরা আমাদের কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করি, সেখানে কিছু স্পন্সর থাকে। স্পন্সর থাকলে সেখানে রাইট বিক্রির একটা ব্যাপার থাকে। সেখানে বিজ্ঞাপন আছে। ইনকামের ব্যাপার থাকে। আয়ের ব্যাপারগুলো যেখানে সম্পৃক্ত, সেখানে মার্কেটিং টিম পরিচালনা করে। মার্কেটিং টিমের কাছে আমাদের এ প্রস্তাব এই মধ্যে দেওয়া আছে। তারা এগুলো নিয়ে কাজ করছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে- ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্কুল লেভেল থেকে শুরু করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ- সব খেলা টেলিকাস্টিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা। টেলিভিশনের যেগুলো সম্ভব হয় সেগুলো টেলিভিশনে আসবে। যেগুলো টেলিভিশনের আনা সম্ভব হবে না, সেগুলো আমরা অনলাইনে টেলিকাস্ট করতে পারি, সেই ধরনের ইকুপমেন্ট ক্রিকেট বোর্ড নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করবে। বোর্ড এমন একটা পরিকল্পনা করছে।’

ভবিষ্যতে অনলাইনে টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির ই-টিকিট বিক্রির বিষয়টি যেন ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেটি মাথায় রেখেই ওয়েবসাইট সাজানো হচ্ছে। বিসিবির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম পরিচালিত হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যাপারে পরিকল্পনাগুলোর মৌখিক ভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত বোর্ড। তানভীর আহমেদ টিটু বলেন, ‘মৌখিকভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আমরা এগুলো করব। আমাদের পরবর্তী সভা আছে। সেখানে পর্যায়ক্রমে এগুলো আসবে, বাজেটের ব্যাপার আছে। এগুলো যখন অনুমোদন হয়ে যাবে বোর্ডসভায় তার পর এগুলো একটার পর একটা হতে থাকবে। একদিনেই তো সব করা সম্ভব হবে না। আমাদের এই পরিকল্পনা যা বললাম, বোর্ড সভাপতি এগুলো জানেন। উনিও সম্মতি দিয়েছেন যে এগুলো আমাদের করা দরকার। খুব তাড়াতাড়ি করা দরকার। যেহেতু বোর্ড সভাপতি পর্যন্ত এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, উনিও যেহেতু মতামত দিয়েছেন যে জরুরিভিত্তিতে এগুলো করা উচিত- আমরা বলতেই পারি যে এ ব্যাপারে আমরা অনেকখানি এগিয়ে গেছি। আশা করি, আমাদের কাজগুলো খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’

advertisement