advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিএনপি সরকারের সম্ভাব্যতা রিপোর্টেই হয়েছে পদ্মা সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ জুন ২০২২ ০৬:০০ পিএম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
advertisement

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ এবং বিএনপিকে জনগণের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা। এগুলোর কোনোটাতেই কাজ হবে না। বিএনপি সরকারের আমলের ফিজিবিলিটি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে পদ্ম সেতুর কাজ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের জবাবে গতকাল বুধবার মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ডাকা সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজকে (বুধবার) যে প্রেস কনফারেন্স করেছেন সেই প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্যে পূর্বের মতোই তিনি স্বভাবসুলভ যে মিথ্যাচার করেন তার আবার প্রমাণ রেখেছেন। এর মধ্যে আছে ‘ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মাওয়া প্রান্তে সেতুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং জাপান সরকারকে পুনরায় মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে সেতুর জন্য সমীক্ষা করতে বলে’- এটা সত্য নয়।

advertisement

২০০৪ সালের মার্চ মাসে জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সির পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি রিপোর্ট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কাছে প্রমাণ হচ্ছে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সির পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি রিপোর্ট যেটি হচ্ছে, মাওয়া এবং জাজিরা প্রান্তের যেটা বর্তমানে আছে। এই রিপোর্টের কপিও আছে আমাদের কাছে, আপনারা চাইলে দেখতে পারেন। এই রিপোর্টটি ২০০৪ সালে মার্চের ৩ তারিখ সাবমিট করা হয়েছিল। এটা হচ্ছে- ‘ইন্টারিয়ম রিপোর্ট অন দ্য ফিজিবিলিটি স্টাডি অব পদ্মা ব্রিজ’।

ফখরুল বলেন, এমন একটা ফিজিবিলিটি রিপোর্ট অফিসিয়ালি দেওয়ার পরও কী করে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলতে পারেন, বিএনপি গভর্নমেন্ট আসার পর এটাকে বন্ধ করে দেয় এবং কোনো কাজ করেনি। এই ফিজিবিলিটি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তারা পরবর্তীকালে কাজ করেছেন। তখনই এডিবি, বিশ্বব্যাংক ও জাপান যোগাযোগ করে ফান্ডের জন্য আলোচনা করা হয়েছিল; কিন্তু সময়ের অভাবে সেটা করা সম্ভব হয়নি- এটা হচ্ছে বাস্তবতা। অথচ তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সমানে বলে যাচ্ছেন, বিএনপি সরকার এটা বন্ধ করে দিয়েছিল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সমস্যাটা হচ্ছে অন্য জায়গায়। কাজ শুরু করার পর বিশ্বব্যাংক যখন ফান্ড বন্ধ করে দিল দুর্নীতির কথা বলে, তখন থেকেই সমস্যাটা শুরু হয়েছে। সেটার জন্য তিনি বিএনপিকে, ড. ইউনূসকে দায়ী করেন। কোথায় পেলেন তিনি? কীভাবে দেখলেন যে, দুর্নীতির কথা বিএনপি বা ড. ইউনূস তুলেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কথা তোলার পর দেশবাসী জানল, আমরা জানলাম সেখানে দুর্নীতি হচ্ছে। আজকে এটা প্রমাণ হয়েছে যে, সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট এখন ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ এবং বিএনপিকে জনগণের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা। এগুলোর কোনোটাই কাজ হবে না। কারণ দেয়ার আর টুলস অ্যান্ড ডুকমেন্টস।’

মির্জা ফখরুল সমীক্ষার বিবরণী তুলে ধরে বলেন, এই সমীক্ষার সামারিতে বলা হয়েছে- এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার, প্রস্থ ২৫ মিটার, পাইলের সংখ্যা ২৬৮টি, নদীশাসন ১৬ দশমিক ৩০ কিলোমিটার, সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য (উভয় পার্শ্বে) ১২ দশমিক ১৬৩ কিলোমিটার, প্রকল্পের (মাওয়া-জাজিরা অবস্থানে) ইআইআরআর ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ রেলসহ, বিসিআর ১ দশমিক ৩৮, ভূমির পরিমাণ ৭৯০ দশমিক ৫০ হেক্টর (অধিগ্রহণ-৬১৬ দশমিক ৫ হেক্টর, হুকুমদখল ১৭৪ দশমিক ০ হেক্টর), ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৭০ সিআর ১ দশমিক ৩৮, ভূমির পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ হাজার।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ২০১৫ সালে মাওয়া-জাজিরা অবস্থানে পদ্মা সেতু দিয়ে দৈনিক ২১ হাজার ৩০০টি যানবাহন পারাপার করবে এবং ২০২৫ সালে হবে ৪১ হাজার ৬০০টি। এই সেতুর নির্মাণকাজ ২০০৮ সালের অক্টোবর নাগাদ শুরু এবং ২০১৩ সালের মার্চ নাগাদ শেষ হবে। এটাই পদ্মা সেতুর বেসিক। এটা কেন্দ্র করেই পদ্মা সেতুর পরবর্তী কাজ করা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, ‘সমীক্ষা অনুযায়ী মাওয়া-জাজিরা অবস্থানে পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয়-প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮৫৮৭ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা। বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ ও জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করার পর ২০০৮ সালের অক্টোবরে এই সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হয়। এই সেতু নির্মাণে সময় ধরা হয় প্রায় ৫৪ মাস।’

বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান; আপনাদের নেতা কে?

বিএনপি ক্ষমতায় এলে কাকে সরকারপ্রধান করবে- প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। নির্বাচন তো হবেই না, যদি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকে। এর পর নিরপেক্ষ সরকার হলেই নির্বাচন হবে। তখনই প্রশ্ন আসবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী হবেন আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তার অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী হবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এখানে আমাদের নেতৃত্বের কোনো সমস্যা নেই। সুতরাং বিএনপিতে কোনো নেতৃত্ব সংকট নেই।

সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, বরং তাদের (আওয়ামী লীগ) সমস্যা রয়েছে। শেখ হাসিনার পর তাদের নেতৃত্বে কে আসবেন? তাদের সংকট আরও বেশি। তিনি চলে গেলে নেতৃত্ব নিয়ে কী যুদ্ধ হয়, তা তারা ভালো বলতে পারবেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (তারেক রহমান) যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য কোনো আবেদনই করেননি।

advertisement