advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জাহানারা ইমামের প্রয়াণ

আমাদের সময় ডেস্ক
২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জুন ২০২২ ১১:৫২ পিএম
advertisement

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত মা, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সংগঠক। এই মহীয়সী নারীর নেতৃত্বেই গত শতকের নব্বইয়ের দশকে গড়ে ওঠে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন। একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে করা সেই আন্দোলন পেয়েছে আজ চূড়ান্ত পরিণতি।

চলছে মানবতাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ। ইতোমধ্যে অপরাধীদের অনেকেরই ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন ক্যানসারের কাছে পরাজিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েট শহরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

advertisement 3

১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে জন্ম নেন জাহানারা ইমাম। তিনি ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। বিএড পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে বাংলায় এমএ পাস করেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। এরপর ১৯৬৬ সালে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

advertisement 4

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাহানারা ইমাম মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য করেছেন। এ সময় তিনি তার মুক্তিযোদ্ধা ছেলে রুমীকে হারিয়েছেন। ছেলের শোকে তার স্বামী শরীফ ইমামও কয়েক মাস পর মারা যান। মুক্তিযুদ্ধের এসব বৃত্তান্ত তিনি দিনলিপি আকারে নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায় ও গোপন সংকেতে লিখে রেখেছিলেন। ১৯৮৬ সালে সেগুলোই ‘একাত্তরের দিনগুলি’ শিরোনামে গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে ছেলে রুমীর আত্মত্যাগ এবং নিজের অবদানের কারণে সবার কাছে আখ্যায়িত হন ‘শহীদ জননী’ হিসেবে।

১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমির ঘোষণা করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দেশের জনগণ। জামায়াতের এ ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে ১৯৯২ সালে গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি। সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম।

জাহানারা ইমামের লিখিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে- অন্য জীবন, বীরশ্রেষ্ঠ, জীবন মৃত্যু, চিরায়ত সাহিত্য, বুকের ভেতরে আগুন, নাটকের অবসান, দুই মেরু, নিঃসঙ্গ পাইন, নয় এ মধুর খেলা, ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস ও প্রবাসের দিনলিপি। ষ আমাদের সময় ডেস্ক

advertisement