advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজস্থলীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

রাঙামাটি প্রতিনিধি
২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০২২ ১২:২২ এএম
প্রতীকী ছবি।
advertisement

তিন দিন আগে বিলাইছড়ির বড়থলি ইউনিয়নের সাইজামপাড়ায় পিতা-পুত্রসহ তিনজন গ্রামবাসীকে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। এর ঠিক তিন দিনের মাথায় রাজস্থলীতে একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার গুলিতে নিহত অভিষেক চাকমা (৩৫) পাহাড়ের আঞ্চলিক দল সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) স্থানীয় কমান্ডার বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের জন্য মগ লিবারেশন পার্টিকে (এমএলপি) অভিযুক্ত করছেন স্থানীয়রা। অবশ্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৪ জুন) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার গাইন্দা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওগাড়িপাড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয় জেএসএস ও মগ লিবারেশন পার্টি (এমএলপি) সশস্ত্র সদস্যদের। এতে অভিষেক চাকমা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা পড়েন। গতকাল নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে রাজস্থলী থানাপুলিশ। তবে নিহতের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে জেএসএস। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বর্তমানে দুটো দলই মুখোমুখী অবস্থানে আছে। এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।

এর আগে গত ২১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্বশস্ত্র অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী বিলাইছড়ির বড়থলি সাইজামপাড়ায় এসে এলাপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে পিতা-পুত্রসহ তিনজন নিহত হন। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- বিশ্ব চন্দ্র ত্রিপুরা (৫৮), তার ছেলে সুবাশ ত্রিপুরা ( ২৫) এবং স্থানীয় বাসিন্দা সুরেন্দ্র ত্রিপুরা।

advertisement 3

হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পর নিজেদের বীরত্ব প্রচার করতে পাহাড়ের নতুন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তাদের ফেসবুক পেজে তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছে। আর নিহতদের ‘নিরীহ গ্রামবাসী’ এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য কুকি-চিন পার্টিকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। জেএসএস সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কেএনএফের দাবিÑ নিহত তিনজন সন্তু লারমার নেতৃত্তাধীন জেএসএস সদস্য। জেএসএসের ক্যাম্পে হামলা করে কুকি-চিন সফল হয়েছে বলে দাবি করা হয় তাদের ফেসবুক পেজে। তবে জেএসএস এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

advertisement 4

রাজস্থলীতে শুক্রবারের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে থানার (ওসি) জাকির হাসাইন জানান, উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দুরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আঞ্চলিক সংগঠনের দুই দলের মধ্যে গোলাগুলি হয়। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ জলপাই রঙের পোশাক পরিহিত একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।

জেএসএস রাঙামাটি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নগেন্দ্র চাকমা জানান, রাজস্থলীতে তাদের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। তাদের কোনো সশস্ত্র দল নেই। জেএসএসের কোনো সদস্য নিহতের খবর তাদের কাছে নেই।

গ্রামবাসীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বড়থলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতোমং মারমা স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, ‘গত ৬ জুন সাইজাম পাড়ায় জেএসএস ও কুকি চীন দলের মধ্যে সংঘাত হয়। এতে কুকি-চীন বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য সাইজাম পাড়ার ত্রিপুরাদের দায়ী করে কুকি-চীন পার্টি। এ ঘটনার পর সাইজাম পাড়াবাসীকে গ্রাম থেকে চলে যেতে হুমকি দেয় কুকি-চিন পার্টি।

advertisement